শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৯ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ মে, ২০২১ ২৩:২৮

এশিয়া জয়ের মিশনে কিংস

‘আমরা দারুণ ফুটবল খেলছি। প্রতিটা ম্যাচেই দৃঢ়তার সঙ্গে জয় পেয়েছি। মালদ্বীপেও ভালো করব আশা করি।’

রাশেদুর রহমান

এশিয়া জয়ের মিশনে কিংস
Google News

বাংলাদেশের ফুটবলে ধুমকেতুর মতোই আগমন বসুন্ধরা কিংসের। ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ জিতে প্রিমিয়ার লিগে স্থান করে নেয় তারা। পরের মৌসুমে অভিষেকেই লিগ জয়। স্বাধীনতা কাপ আর ফেডারেশন কাপও নিজেদের করে নিয়েছে তারা। ঘরোয়া ফুটবলের সব প্রতিযোগিতায় সাফল্যের মুকুটজয়ী বসুন্ধরা কিংস এবার এশিয়া জয়ের মিশনে নামছে। এএফসি কাপ ডি গ্রুপের ম্যাচ খেলতে আজ ৪৫ সদস্যের দল নিয়ে মালদ্বীপ যাত্রা করছে অস্কার ব্রুজোনের দল। গতকালই সবার করোনা টেস্ট (ফল নেগেটিভ) করা হয়েছে।

গত কয়েকদিনে পেশাদার লিগে তিনটা ম্যাচ খেলেছে বসুন্ধরা কিংস। এই তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ১৩ গোল দিয়ে গোল হজম করেছে কেবল ১ গোল। একদিকে যেমন তুখোড় আক্রমণভাগ আছে দলটার অন্যদিকে তেমনি পাথুরে কেল্লার মতো মজবুত ডিফেন্স লাইন। এএফসি কাপে বসুন্ধরা কিংসের প্রধান প্রতিপক্ষ আইএসএলের বর্তমান রানার্সআপ এটিকে মোহনবাগান। গত ১৩ মার্চ আইএসএলের ফাইনাল ম্যাচের পর আর কোনো ম্যাচ খেলেনি দলটা। মালদ্বীপের দল মাজিয়া শেষ ম্যাচ খেলেছে গত ২১ এপ্রিল। এই মাজিয়ার বিপক্ষেই ১৪ মে এএফসি কাপ ডি গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে বসুন্ধরা কিংস। গ্রুপের অন্য দল নির্ধারিত হবে ১১ মে। ভারতীয় ক্লাব বেঙ্গালুরু ও মালদ্বীপের ক্লাব ঈগলসের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচের বিজয়ী খেলবে বসুন্ধরা কিংসের গ্রুপে।

বাংলাদেশ থেকে এএফসি কাপে সেরা সাফল্য আবাহনী লিমিটেডের। তারা ইন্টার জোন প্লে-অফ সেমিফাইনাল খেলেছে ২০১৯ সালে। এছাড়া মোহামেডান এশিয়ান ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে একবার সেমিফাইনাল গ্রুপ রাউন্ড (১৯৮৮-৮৯) এবং একবার কোয়ার্টার ফাইনাল (১৯৯০-৯১) খেলেছে। এশিয়ান প্রতিযোগিতায় দেশীয় ক্লাবগুলোর অতীত সাফল্যকে পেছনে ফেলে নতুন মাইলফলক স্থাপনের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে যাত্রা করেছে বসুন্ধরা কিংস। গত বছর কিংসের আর্জেন্টাইন ফুটবলার হারনান বারকোস এএফসি কাপের প্রথম ম্যাচে চার গোল করে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। বসুন্ধরা কিংস টিসি স্পোর্টসের বিপক্ষে সেই ম্যাচটা জিতেছিল ৫-১ গোলে। এরপর করোনাভাইরাসের কারণে সেবার এএফসি কাপ আর মাঠে গড়ায়নি।

নতুন মিশন নিয়ে মালদ্বীপ যাচ্ছে অস্কার ব্রুজোনের দল। তবে লক্ষ্য পুরনোই। এশিয়ান লেভেলে বিজয়ী হয়ে দেশকে গর্বিত করা। সেই লক্ষ্য পূরণের প্রথম ধাপ, মালদ্বীপে অনুষ্ঠেয় ‘ডি’ গ্রুপের লড়াইয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। মোহনবাগান, মাজিয়া এবং বেঙ্গালুরু/ঈগলসের বিপক্ষে প্রতিটা ম্যাচই তাদের গুরুত্বপূর্ণ। বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান বলেন, ‘গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াই আমাদের প্রথম লক্ষ্য। তা না হলে এএফসি কাপ জয় করব কী করে।’ তিনি আরও বললেন, ‘আমাদের দলটা খেলার মধ্যে আছে। সবাই দারুণ ফর্মে। আশা করি আমাদের লক্ষ্য পূরণ হবে।’ দলের অধিনায়ক তপু বর্মণও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বললেন, ‘আমরা দারুণ ফুটবল খেলছি। প্রতিটা ম্যাচেই দৃঢ়তার সঙ্গে জয় পেয়েছি। মালদ্বীপেও ভালো করব আশা করি।’

গ্রুপ পর্বে চ্যাম্পিয়ন হলে বসুন্ধরা কিংস খেলবে ইন্টার জোন প্লে-অফ সেমিফাইনালে। এরপর ইন্টার জোন প্লে-অফ ফাইনাল খেলে চূড়ান্ত ফাইনালে খেলতে পারবে কিংস। সাফল্যের শিখরে পৌঁছতে হলে দীর্ঘ পথই পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসকে।

এএফসি কাপে বসুন্ধরার সূচি

বসুন্ধরা কিংস-মাজিয়া, ১৪ মে

বসুন্ধরা কিংস-ঈগলস/বেঙ্গালুরু, ১৭ মে

বসুন্ধরা কিংস- মোহনবাগান, ২০ মে