শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জুন, ২০২১ ২৩:১২

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ

সাদা পোশাকে ‘রঙিন’ লড়াই

ফাইনাল শুরু আজ

মেজবাহ্-উল-হক

সাদা পোশাকে ‘রঙিন’ লড়াই
Google News

বিরাট কোহলি বনাম কেন উইলিয়ামসন।

ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড।

এই প্রজন্মের সেরা দুই টেস্ট ক্রিকেটার এবং দুই সেরা দল আজ মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে।

খেলা হবে নিরপেক্ষ ভেন্যু ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটনের নান্দনিক সৌন্দর্যে ভরপুর স্টেডিয়াম এইজেজ বোলে। বহু আকাক্সিক্ষত ফাইনালটি হওয়ার কথা ছিল ‘হোম অব ক্রিকেট’ লর্ডসে। কিন্তু করোনা মহামারীর কথা বিবেচনায় নিয়ে ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা আইসিসি সাউদাম্পটনে নিয়েছে। কারণ এইজেজ বোল এমন এক অদ্ভূত স্টেডিয়াম, যার গ্যালারিতেই পাঁচ তারকা হোটেল। তাই খেলোয়াড় কিংবা ম্যাচ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বাইরে থাকার প্রয়োজন নেই।

টেস্টকে বলা হয় ক্রিকেটের সেরা ফরম্যাট। এখানে কেবলমাত্র কয়েক ঘণ্টা কিংবা নির্দিষ্ট দিনে ভালো করলেই ম্যাচ জেতা যায় না। নামে ‘টেস্ট’ হলেও আসল পরীক্ষা দিতে হয় এখানেই! ৫দিন, ১৫ সেশন -এমনকি প্রতিটি ঘণ্টা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে থাকতে হয় ক্রিকেটারকে।

সত্যিকারের সেরা দলটাই এই ফরম্যাটে শেষ পর্যন্ত সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে যায়। নিঃসন্দেহে এই মুহূর্তে সাদা পোশাকে বিশ্বের সেরা দুই দল ভারত ও নিউজিল্যান্ড।

আর প্রজন্মের দুই সেরা ক্রিকেটার যে বিরাট কোহলি ও কেন উইলিয়ামসন -তা তাদের পরিসংখ্যানই সাক্ষ্য দিচ্ছে। টেস্টে দুই ক্রিকেটারেরই ৭ হাজারের উপরে রান। গড়ও তাদের পঞ্চাশের উপরে। কী অসাধারণ দুই তারকার টেস্ট রেকর্ড। নেতৃত্বেও তারা ক্রিকেট বিশ্বে রোল মডেল।

এমন দুই সেরার লড়াইটা তাই ক্রিকেট বিশ্বের জন্য বিশেষ কিছু।

ইংল্যান্ডের মাটি ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলির জন্য খুবই পয়মন্ত। দারুণ সব রেকর্ডও আছে। ২০১৮ সালে এক সিরিজেই তো দুই সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন কোহলি।

অন্যদিকে খেলোয়াড় এবং অধিনায়ক হিসেবে অনন্য। নিজে যেমন ক্যারিশম্যাটিক ব্যাটিং করেন, তেমনি অন্যদের ভিতর থেকেও সেরাটা বের করে নিয়ে আসতেও তার জুড়ি নেই। এই ইংল্যান্ডের মাটিতেই সাদামাটা একটি দল নিয়েও নিউজিল্যান্ডে পৌঁছে দিয়েছিলেন ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে। কিন্তু একটুর জন্য শিরোপাটা জেতা হয়নি। সেই ইংল্যান্ডের মাটিতেই আরেকবার বিশ্বজয়ের সুযোগ এসেছে উইলিয়ামসনের সামনে।

বিরাট কোহলিও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন। ২০১৯ সালে ‘সুপার পাওয়ার’ এক দল নিয়েও ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে এই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে হেরেই বিশ্বকাপ জয়ের আশা ভঙ্গ হয়েছে। এবার প্রতিশোধ নেওয়ার দারুণ এক সুযোগ এসেছে কোহলির সামনেও।

মজার বিষয় হচ্ছে, দুই দল কিন্তু কেবলই অধিনায়ক সর্বস্ব নয়! কারণ এর আগে অস্ট্রেলিয়া সফরে কোহলি দেশে পরও ভারত কিন্তু শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজে হারিয়েছে। আর সম্প্রতি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের শেষ ম্যাচে কেন উইলিয়ামসনকে ছাড়াই সিরিজ জিতেছে নিউজিল্যান্ড। তাই ফাইনালে এমন দুই সেরা দলের সঙ্গে তাদের সেরা অধিনায়ক থাকায় লড়াইয়ে যোগ হচ্ছে বাড়তি রোমাঞ্চ।

ফিটনেসেও সেরা দুই দল। আক্রমণেও সেরা ভারত ও নিউজিল্যান্ড। কয়েকদিন আগে ইংল্যান্ডকে সিরিজে হারিয়ে ব্লাক ক্যাপসরা তাদের সামর্থ্য দেখিয়ে দিয়েছে।

আর ভারতকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। দলটির টেস্ট স্কোয়াডে থাকা সব ক’জন বোলারই আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা ২০ এর মধ্যে রয়েছেন। অফ-স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন এখন র‌্যাঙ্কিংয়ের দুইয়ে। তার সঙ্গে বোলিং আক্রমণে আছেন পেসত্রয়ী জাস্প্রিত বুমরা, মোহাম্মদ সামি ও ইশান্ত শর্মা। সব মিলে বোলিং অ্যাটাকে এক ‘পারফেক্ট কম্বিনেশন’।

নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণের কেন্দ্রে থাকবেন দুই পেস সেনসেশন টিম সাউদি ও ট্রেন্ট বোল্ট। নতুন বলে তাদের যে কী অসাধারণ কম্বিনেশন তা টেস্ট ক্রিকেট ভক্ত মাত্রই জানা। বাঁ হাতি পেসার বোল্টের সুইং ও বৈচিত্র্য যেকোনো ব্যাটসম্যানকে বিপদে ফেলার জন্য যথেষ্ঠ।

এছাড়া ম্যাট হ্যানরির মতো টপ-ক্লাস বোলার আছে কিউইদের হাতে। এই হেনরিই তো এজবাস্টনে ছয় উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে ব্যাকফুটে পাঠিয়ে দিয়েছিল। কাইল জেমিসনের মতো বোলারও তাদের স্টকে আছে।

টেস্টে সবসময়ই বড় ভূমিকা থাকে উইকেটরক্ষকের। মাঠে প্রতি বলেই সবচেয়ে বেশি তৎপর থাকতে হয় তাকে। পাশাপাশি অন্যদেরও মনোযোগী রাখতে হয়। তা ছাড়া ব্যাটিং তো তার আলাদা ভূমিকা থাকেই। সে জায়গায় কিউই কিপার বিজে ওয়াটলিংয়ের চেয়ে খানিকটা এগিয়ে থাকবেন ভারতের রিশভ পান্থ। দক্ষিণ আফ্রিকান বংশো™ভূত ওয়াটলিং আগেই ঘোষণা দিয়েছেন এই ফাইনাল নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে সাদা পোশাকে তার শেষ ম্যাচ। ৭৪ টেস্টে ৩৭.৮৯ গড়ে ৩,৭৮৯ রান করেছেন। ৮টি সেঞ্চুরিও আছে তার। ওয়াটলিং চাইবেন শেষ ম্যাচটি রাঙিয়ে দিতে।

পান্থ উইকেটের পেছনে তার দক্ষতার পাশাপাশি ক্যারিশম্যাটিক ব্যাটিং করে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি মহেন্দ্র সিং ধোনির যোগ্য উত্তরসূরি। অস্ট্রেলিয়ায় কোহলি না থাকার পরও পান্থের অপরাজিত ১৫৯ এবং ৮৯ রানের ক্যারিশম্যাটিক ইনিংসে সিরিজ জিতেছিল ভারত। এই ফাইনালেও মিডল অর্ডারে ভারতের ভরসা তিনি।

ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং, ফিটনেস কিংবা উইকেটকিপিং -সব বিভাগেই সেরা দুই দল। তাই সাদা পোশাকের ক্রিকেটে লড়াইটা কিন্তু মোটেও ‘সাদামাটা’ হচ্ছে না! সাউদাম্পটনে দুই সেরার ‘রঙিন’ লড়াই দেখার প্রতীক্ষায় ক্রিকেটবিশ্ব।