বিক্রমজিত সিং ওভারের দ্বিতীয় বলটি ক্রস সিমে স্লোয়ার করেন। বলটি পিচ করে লেগ স্ট্যাম্পে। সাইফ হাসান তখন ব্যাট করছিলেন ২৪ রানে। লেগ স্ট্যাম্পের বলটি দেখেই ফ্লিক খেলেন সাইফ। ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে সীমানার বাইরে আছড়ে পড়ে, ছক্কা। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি তখন পুরোপুরি হেলে পড়েছে বাংলাদেশের দিকে। ইনিংসের ১৪ ওভার চলছিল। তৃতীয় বলটি ছিল ফুলার লেন্থের। এবারও সাইফ কোনো ভুল করেননি। স্ট্রেইট ড্রাইভে ছক্কা। ওই ছক্কায় ৩৯ বল হাতে রেখে সহজ জয় পায় বাংলাদেশ। টানা দুই ছক্কায় সাইফ নিজের সামর্থ্যরে প্রমাণ রাখেন। প্রমাণ করেন দুই বছর পর তাকে টি-২০ ফরম্যাটে ফেরানোটা ভুল কোনো সিদ্ধান্ত নয়। শুধু দুই ছক্কা নয়, ১৯ বলে খেলেন ৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংস। নির্বাচক প্যানেল তাকে যে পরিকল্পনায় দলভুক্ত করেন, ব্যাটিং ও বোলিংয়ে সেটা প্রমাণ করেন। উইকেট নেন ২টি। এক ম্যাচ খেলেই ফের আলোচনায় উঠে আসেন সাইফ। তিন ম্যাচ টি-২০ সিরিজের দ্বিতীয়টি আজ। যদি লিটনরা জিতে যান, তাহলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতবেন টাইগাররা। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথমবার সিরিজ জিতবে। দুই দল এর আগে ২০১২ সালে প্রথমবার টি-২০ সিরিজ খেলেছিল। ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়েছিল সিরিজটি। এরপর দুই দল আরও তিনটি ম্যাচ খেলেছিল। সবই টি-২০ বিশ্বকাপে।
প্রথম ম্যাচ ৮ উইকেটের সহজ জয়ে সিরিজে এগিয়ে গেছে লিটন বাহিনী। আনুষ্ঠানিক কোনো অনুশীলন ছিল না গতকাল। ঐচ্ছিক অনুশীলন করেছেন ক্রিকেটাররা। অনুশীলনের পর মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেন সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। সাইফের প্রশংসা করেন তিনি। কিন্তু সেখানে ছিল সতর্কতা। সিরিজের আগে সাইফ সর্বশেষ টি-২০ ম্যাচ খেলেছিলেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে, হ্যাংঝু এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের বিপক্ষে। ছন্দ হারিয়ে বাদ পড়েন। তবে নির্বাচকমণ্ডলীর নজরের বাইরে ছিলেন না। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরে টপ অ্যান্ড টি-২০ সিরিজ খেলছিলেন সাইফ ও নুরুল হাসান সোহান। গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর নেতৃত্বাধীন নির্বাচক প্যানেল দুজনকে নেদারল্যান্ডস সিরিজ ও টি-২০ এশিয়া কাপের জন্য দলভুক্ত করে। সফরকারীদের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে সোহানের জায়গা হয়নি। সাইফ খেলে বাজিমাত করেন অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সে। সাইফের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমি আপনাদের আগেও অনুরোধ করেছি, কাউকে খুব তাড়াতাড়ি আকাশে তুলে ফেলবেন না। কাউকে এত তাড়াতাড়ি নিচেও নামিয়ে ফেলবেন না।’
জাতীয় দলে সাইফের অন্তর্ভুক্তি মূলত টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে। ২০২০ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক। ৬ টেস্টে রান করেছেন ১৪৩। অফ স্পিনে উইকেট নিয়েছেন একটি। টি-২০ ক্রিকেটে অভিষেক ২০২১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুরে। একটি মাত্র ৫০ রানের ইনিংস খেলেন মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হ্যাংঝু এশিয়ান গেমসে। ডাচ্ বাহিনীর বিপক্ষে ৩৬ রানের অপরাজিত থাকলেও আগের ৫ ম্যাচে একটি মাত্র দুই অংকের ইনিংস খেলেন। বাকি ৪ ম্যাচে তার স্কোরগুলো যথাক্রমে ১, ০, ১ ও ০। তারপরও তার ওপর আস্থা রেখেছেন নির্বাচক প্যানেল। পরিশ্রম করে নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছেন। সালাউদ্দিন মনে করেন, সাইফের ফেলার মূল মন্ত্র ছিল পরিশ্রম ও শক্ত মানসিকতা। তিনি বলেন, ‘যে কোনো মানুষই যখন পিছিয়ে যায়, সেখান থেকে সবাই বেরিয়ে আসতে পারে না। যেহেতু ওর একটা তকমা ছিল টেস্ট ক্রিকেটার, সেখান থেকে সে বেরিয়ে এসেছে। বের হতে যে দৃঢ়তা দেখিয়েছে, অন্যরা সাধারণত সেটা দেখাতে পারে না।’