শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২১:৫৭

সৌন্দর্যবর্ধনের দাপটে ফুটপাথ বেহাল

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

সৌন্দর্যবর্ধনের দাপটে ফুটপাথ  বেহাল

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ এলাকার মক্কি মসজিদের দক্ষিণের ফুটপাথ সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়। কিন্তু সৌন্দর্যবর্ধনের নামে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে ফার্মেসি ও হোটেল রেস্টুরেন্ট। একইভাবে কাজীর দেউড়ি মোড়ের দক্ষিণে ফুটপাথে তৈরি করা হয় দোকান। জামাল খান এস এস খালেদ সড়কের ফুটপাথেই তৈরি করা হয় মাছের অ্যাকুরিয়াম ও দোকান। নিউ মার্কেট এলাকার জিপিওর সামনে ফুটপাথে তৈরি করা হয়েছে দোকান।  

এভাবে নগরের প্রায় অর্ধশত সড়কের ফুটপাথ এবং মোড়ে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের নামে দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে সংকুচিত হয়েছে পথচারী হাঁটার পথ। অনেক সময় বাধ্য হয়ে পথচারীকে সড়ক দিয়েই চলাচল করতে হয়। অনেক ফুটপাথে ছাউনি নির্মাণ করা হলেও সেখানে প্রাধান্য পেয়েছে বাণিজ্যিক দোকান। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এসব দোকান ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করে। অন্যদিকে, বেশ কিছু যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনেই। কখনো এসব যাত্রী ছাউনি হয়ে ওঠে বখাটেদের আস্তানা, কখনো চলে বহিরাগতদের আড্ডা। তবে সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নের বিষয়টি প্রশংসনীয় হলেও কিছু কিছু কাজ ফুটপাথ দখল করে হওয়ায় পুরো উদ্যোগটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায় বলে জানা যায়। চসিক প্রতিটি ওয়ার্ড ও থানায় দুটি করে যাত্রী ছাউনি করার সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযোগ আছে, নগরে এমনিতেই ফুটপাথের পরিমাণ কম, ২৭৮ কিমি। এর ওপর যদি নানাভাবে বেদখল হয়ে যায়, তাহলে পথচারীদের বাধ্য হয়েই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। ফলে পড়তে হয় ভোগান্তিতে। চসিকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ একেএম রেজাউল করিম বলেন, ‘আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহযোগিতায় নগরে ৬৬টি ফুটপাথ ও মোড়ে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনমূলক যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে কয়েকটি ছাড়া প্রায় যাত্রী ছাউনির কাজ শেষ। এসব পথচারী এবং যাত্রীদের কল্যাণেই করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘চসিকের নির্দেশনা ছিল, যেখানে ৩০ ফুট জায়গা থাকবে সেখানে ১০ ফুট কুলিং কর্নার ও ২০ ফুট যাত্রী ছাউনি হবে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় হয়েছে বলে আমরা শুনেছি। এটি তারা অন্যায় করেছে। এ ব্যাপারে আমরা তদারকির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

চসিক সূত্রে জানা যায়, নগরকে ক্লিন সিটি ও গ্রিন করতে নানা আয়োজন ও উদ্যোগ নেয় চসিক। বেশিরভাগ সড়ককে সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়ন করেছে চসিক। বিষয়টি প্রশংসনীয়। তবে কিছু কিছু কাজ ফুটপাথ ও সড়ক দখল করে হওয়ায় সবুজায়নের কাজটিই অনেকের কাছে দৃষ্টিকটু হয়ে পড়ে।


আপনার মন্তব্য