মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৩ ০০:০০ টা

রাজশাহী যেভাবে পরিচ্ছন্ন নগরী

সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ২০০৯ সালে বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া আধুনিক করা শুরু হয়েছিল। দীর্ঘদিনে নাগরিকদেরও একটা অভ্যাস গড়ে উঠেছে

কাজী শাহেদ, রাজশাহী

রাজশাহী যেভাবে পরিচ্ছন্ন নগরী

আগে রাস্তার পাশে পড়ে থাকত গৃহস্থালি বর্জ্য। এখন সেই দিন বদলেছে। প্রতিদিনই রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বাসাবাড়িতে গিয়ে বাঁশিতে ফুঁ দেন। বাঁশির শব্দে গৃহস্থালি বর্জ্য নিয়ে বাইরে আসেন লোকজন। এরপর এসব বর্জ্য নগরীর সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) রাখেন তারা। সেখান থেকে আরেক দল কর্মী তা ময়লা ফেলার স্থানে নিয়ে যান। যেসব এলাকায় এখনো এসটিএস নির্মাণ হয়নি, সেগুলোতে নির্দিষ্ট একটি জায়গায় বর্জ্য রাখা হয়। সেখান থেকে ভাগাড়ে নেওয়া হয়। ভিআইপি সড়ক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ময়লা অপসারণের জন্য আছে আরেক দল কর্মী। এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই রাজশাহীকে পরিচ্ছন্ন নগরীর মর্যাদা এনে দিয়েছে। সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, নগরীর বর্জ্য অপসারণে আছেন ১ হাজার ৪০০ জন কর্মী। শহরে বর্তমানে ১২টি এসটিএস আছে। ৩০টি ওয়ার্ডেই একটি করে এসটিএস নির্মাণ হবে। বাকিগুলোর নির্মাণকাজ চলছে। সুশাসন বিশ্লেষক সুব্রত পাল বলেন, ‘তুলনামূলকভাবে বলা যায়, রাজশাহী দেশের একটি পরিচ্ছন্ন শহর। নগরীর প্রধান এলাকাগুলো সুন্দর। এখনো কিছু অলিগলিতে ময়লা ও নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকে। যারা এগুলো ফেলে রাখেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

১৯৯৭ সালে সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী সরিৎ দত্তগুপ্ত ‘হেলদি সিটি প্রকল্প’ নামের বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার একটি পাইলট প্রকল্প চালু করেন। শহরের কয়েকটি মহল্লায় ওই প্রকল্পের আওতায় অংশীদারির ভিত্তিতে বর্জ্য অপসারণের জন্য বাসিন্দাদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। এতে তারা নিজের বাসার ময়লা একটা পাত্রে গুছিয়ে রাখেন। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বাঁশি বাজালে তারা ময়লা ভ্যানের কাছে নিয়ে আসেন। এক বছর পর সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডের জন্য ৩০টি ভ্যানের ব্যবস্থা করা হয়। সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থায়ী কমিটির সভাপতি সরিফুল ইসলাম বাবু বলেন, এখন ওয়ার্ড কার্যালয় থেকে বর্জ্য পরিবহনের ভ্যান আছে। এ জন্য বাসাবাড়ি থেকে টাকা নেওয়া হয় না। সিটি করপোরেশন থেকে কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হয়। সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ২০০৯ সালে বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া আধুনিক করা শুরু হয়েছিল। দীর্ঘদিনে নাগরিকদেরও একটা অভ্যাস গড়ে উঠেছে। কয়েকটি এলাকা বাদে অন্যসব এলাকার বাসিন্দারা গাড়ি ছাড়া বাইরে বর্জ্য ফেলেন না। ইতোমধ্যে ১২টি এসটিএস নির্মিত হয়েছে। বাকিগুলো হয়ে গেলে বাইরে থেকে আর কোনো আবর্জনা দেখা যাবে না।

সর্বশেষ খবর