শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ জুন, ২০২১ ২২:৫৫

ফোর্বস-এর চোখে ২০২১ তালিকা

শীর্ষ ধনকুবের নারীদের কাহিনি

সাইফ ইমন

শীর্ষ ধনকুবের নারীদের কাহিনি
Google News

১. ৭৩.৬ বিলিয়ন ডলার

বেটেনকোর্ট মেয়ার্সের সম্পদ প্রতিনিয়ত বাড়ছেই

ফ্রাঁসোয়া বেটেনকোর্ট মেয়ার্স। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৭৩.৬ বিলিয়ন ডলার। ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসাব অনুসারে তিনি বিশ্বের নারী ধনী ব্যক্তিদের তালিকার সবার শীর্ষে অবস্থান করছেন। ফরাসি কসমেটিক কোম্পানি ল’রিয়েলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তার মা লিলিয়ান মেয়ার্স। মায়ের মৃত্যুর পর বিশাল পরিমাণ সম্পদের মালিক হন তিনি। তিনি এবং তার পরিবার লরিয়েলের ৩৩ শতাংশের মালিক। লিলিয়ান মেয়ার্স ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৯৪ বছর বয়সে মারা যান। বেটেনকোর্ট ফোর্বস-এর ২০১৯ সালের শীর্ষ ধনী ব্যক্তির তালিকায় ১৫ নম্বরে রয়েছেন। তবে তিনি স্বপ্রতিষ্ঠিত ধনী নন। লরিয়েলের পাশাপাশি পারিবারিক হোল্ডিং কোম্পানিরও চেয়ারম্যান তিনি। লরিয়েলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তার নানি ইউজেন শুয়েলার। বেটেনকোর্ট লরিয়েলের পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেন ১৯৯৭ সালে।

 

 

২. ৬১. ৮ বিলিয়ন ডলার

ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতা স্যামের কন্যা এলাইস ওয়ালটন

ফোর্বসের তালিকা অনুযায়ী এলাইস ওয়ালটনের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৬১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৫ সালের শুরু থেকেই আলোচনায় রয়েছেন তিনি। বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্টের সঙ্গে যুক্ত এলাইস তার দক্ষতা ও প্রজ্ঞা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে চলেছেন। ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতা স্যামের কন্যা হিসেবে তিনি পারদর্শিতায় ব্যবসায়িক মহলে সমাদৃত। তিনি ছোটবেলা থেকেই ব্যবসা ছাড়া অন্যান্য বিষয়েও আগ্রহী ছিলেন। তার মধ্যে অন্যতম পেইন্টিং সংগ্রহ করা। ব্যবসায় শীর্ষ ধনী নারীদের কাতারে নাম লেখানোর পর থেকে চ্যারিটিতে অর্থ প্রদান করে তিনি সর্বমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এ ছাড়া শিক্ষা খাতে সহায়তা প্রদান ও সমাজসেবামূলক কাজেও তিনি অকাতরে অর্থ বিলিয়ে থাকেন। একজন ব্রোকার হিসেবেও তার সুনাম রয়েছে। দিন দিন তার উপার্জিত অর্থের পরিমাণ বাড়ছেই।

 

৩. ৫৩ বিলিয়ন ডলার

৬ হাজার ৫০০ প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করেছেন ম্যাকেনজি

ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোসের সাবেক স্ত্রী ম্যাকেনজি স্কট। তার সম্পদের পরিমাণ ৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৯ সালের মাঝামাঝি জেফ বেজোস ও ম্যাকেনজি দীর্ঘ ২৫ বছরের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানেন। জেফ বেজোসের সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদের আপসরফা হিসেবে ম্যাকেনজি স্কট অ্যামাজনের ৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক হন।  তিনি তৃতীয় শীর্ষ নারী ধনকুবের। সম্পদের বেশির ভাগ তিনি পেয়েছেন তার সাবেক স্বামী জেফ বেজোসের কাছ থেকে। করোনা অনেক আমেরিকানের জীবন পঙ্গু করে দিয়েছে। তাদের সহায়তার জন্য ইতিমধ্যে ৩৮০টি দাতা সংস্থা এবং ৬ হাজার ৫০০টি প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করেছেন তিনি। ম্যাকেনজি তার সম্পদের অর্ধেকই দান করে দেবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি তার নামের শেষে ‘বেজোস’-এর বদলে ‘স্কট’ লিখছেন।

 

৪. ৪৬.৪ বিলিয়ন ডলার

স্বামীর মৃত্যুর পর জুলিয়া কোচ

নারী শীর্ষ ধনীর তালিকায় চতুর্থ স্থানে আছেন জুলিয়া কোচ। তার সম্পদের পরিমাণ ৪৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত কোচ ইন্ডাস্ট্রিজের ৪২ শতাংশ শেয়ারের মালিক জুলিয়া ও তার তিন সন্তান। কোচ ইন্ডাস্ট্রিজকে বিশ্বের দরবারে প্রথম শ্রেণিতে নিয়ে আসেন তার স্বামী ডেভিড কোচ। স্বামীর মৃত্যুর পর শীর্ষ ধনী নারীর তালিকায় তিনি উঠে আসেন। বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের মধ্যে তার অবস্থান শীর্ষ ২৬-এ। যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য আইওয়াতে জন্ম জুলিয়া কোচের। আশির দশকে নিউইয়র্ক সিটিতে চলে আসেন। প্যাসন ছিল ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে। ফ্যাশন ডিজাইনার অ্যাডলফোর সহকারী হিসেবে কাজ করেন অনেক দিন। ওই সময় তিনি ফার্স্ট লেডি ন্যান্সি রেগানসহ অনেক হাই প্রফাইল ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করেছেন। ১৯৯১ সালে ডেভিড কোচের সঙ্গে দেখা হয়। তারা ছয় মাসের মধ্যে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং ১৯৯৬ সালে বিয়ে করেন।

 

৫. ৩৮. ২ বিলিয়ন ডলার

প্রয়াত শেলডনের স্ত্রী মিরিয়াম

নতুনদের মধ্যে ৩৮.২ বিলিয়ন ডলার নিয়ে শীর্ষ নারী ধনকুবেরের তালিকায় এসেছেন মিরিয়াম এডেলসন। নেভাদার ক্যাসিনো ওয়ার্ল্ডের মালিক তিনি। স্বামীর মৃত্যুতে এই তালিকায় এসে পড়েছেন তিনি। তার স্বামী ছিলেন বিশ্বের বিখ্যাত ধনী ব্যক্তি শেলডন এডেলসন। তিনি লাস ভেগাস ক্যাসিনো মোগল হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শেলডন এডেলসন ক্যাসিনো তথা জুয়ার ব্যবসার মাধ্যমে অর্জন করেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার। স্বামীর উপার্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পদের দেখভালের দায়িত্ব এখন মিরিয়াম এডেলসন পালন করছেন। তিনি এখন বিশ্বের ৪৪তম শীর্ষ ধনী ব্যক্তি। আর নারী ধনকুবেরের তালিকায় তিনি পঞ্চম। ইসরায়েলের বিখ্যাত সংবাদপত্র ইসরায়েল হায়োমেরও প্রকাশক তিনি। বিশ্বখ্যাত লাস ভেগাস স্যান্ডসের বড় অংশের মালিক এখন তিনি। পেশাজীবনে তিনি ব্যবসার সঙ্গে আগে যুক্ত ছিলেন না। নিজের ডাক্তারি পেশাকেই সব সময় প্রাধান্য দিয়ে এসেছেন আজীবন।

 

৬. ৩১.৩ বিলিয়ন ডলার

জ্যাকুলিন মার্স প্রশংসিত তার ব্যবসায়িক প্রজ্ঞার কারণে

মার্স পরিবারকে ধনী পরিবার হিসেবেই শুধু নয়, অনেকেই চেনে ‘ক্যান্ডি ফ্যামিলি’ বলে। ‘মিল্কি ওয়ে’, ‘এম অ্যান্ড এম’ অথবা ‘স্নিকার বার’ এসব চকোলেট কিনে যারা হালকা নাস্তা করে নেন তারা নিশ্চয়ই মার্স পরিবারকে চিনবেন। তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম মার্স। মার্সের হয়ে জ্যাকুলিন মার্স কাজ করে যাচ্ছেন। ব্যবসায়িকভাবে দারুণ সফল এই নারী ব্যবসায়ী বিশ্বের ৬ষ্ঠ ধনী নারী। তার অর্থের পরিমাণ ৩১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তার দুই ভাইকে নিয়ে চলছে মার্স কোম্পানি। একুশ শতকে এসে মার্সের ব্যবসা হঠাৎ করেই ব্যাপক লাভের মুখ দেখে।  একুশ শতকে মার্স এ পর্যন্ত ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের চকোলেট পণ্য বিক্রি করে। আর এই সফলতার গল্পের পেছনে বিশেষ করে বলতে হয় জ্যাকুলিন মার্সের কথা। তার ব্যবসায়িক প্রজ্ঞা মার্সকে প্রতিনিয়ত অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।

 

৭. ২৯.৬ বিলিয়ন ডলার

তালিকার সর্বকনিষ্ঠ বিলিওনিয়ার ইয়াং হুইয়ান

ব্লুমবার্গ সূচক বলছে, হুইয়ান হচ্ছেন চীনের সবচেয়ে ধনী নারী এবং সবচেয়ে কম বয়সী বিলিওনিয়ার। ২০০৫ সালে বাবার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির মালিকানা পান তিনি। ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত কান্ট্রি গার্ডেন হোল্ডিংসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হুইয়ানের বাবা ইয়াং গিওকিয়াং। হুইয়ান বিশ্বের বাণিজ্য দুনিয়ায় সাড়া জাগিয়েছেন। পুরো নাম ইয়াং হুইয়ান। জন্ম ২০ জুলাই, ১৯৮১। বর্তমানে এশিয়ার সবচেয়ে ধনী নারী। বিশ্বের তরুণ বিলিওনিয়ারদের মধ্যে হুইয়ান অন্যতম। তার বাবা ২০০৫ সালে উত্তরসূরি হিসেবে মেয়েকে পারিবারিক এ ব্যবসার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। ইয়াং হুইয়ান কেবল তালিকার সবচেয়ে কনিষ্ঠ ধনকুবের নয়, তিনি চীনের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিও। তিনি কান্ট্রি গার্ডেন হোল্ডিংসের শেয়ারের ৭০ শতাংশ পেয়েছিলেন। সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে তার বাবা এখনো রয়েছেন।

 

৮. ২৭.৭ বিলিয়ন ডলার

অ্যালটানাকে বিশ্বমানে নিয়ে গেছেন সুজান ক্লাটেন

জার্মান নাগরিক সুজান বিশ্বের অষ্টম নারী ধনী। তার সম্পদের পরিমাণ ২৭.৭ বিলিয়ন ডলার। বিএমডব্লিউয়ের প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অটোমেকার হারবার্ট কোঁয়ান্দের মেয়ে তিনি। এ ছাড়া কেমিক্যাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অ্যালটানার দায়িত্বেও আছেন তিনি। সুজান ক্লাটেন জার্মানির সবচেয়ে ধনী নারী। তিনি আটলান্টা কোম্পানিরও শেয়ার হোল্ডার। ‘আটলান্টা’ ফার্মাসিউটিক্যালস এবং কেমিক্যাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। তার হাত ধরে কোম্পানিটি বিশ্বব্যাপী প্রচুর অর্থ উপার্জন করে। ২০০৬ সালে কোম্পানি এর সব ফার্মাসিউটিক্যাল ব্যবসা বিক্রি করে দেয় আর ২০০৯ সালে সুজান আটলান্টার অন্যসব শেয়ার কিনে নেন। জার্মান মোটরগাড়ি, মোটরসাইকেল ও ইঞ্জিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিএমডব্লিউয়ের ১৯ দশমিক ২ শতাংশের মালিক সুজান ক্লাটেন। তার ভাই স্টিফান কোঁয়ান্দের বিএমডব্লিউতে শেয়ার রয়েছে।

 

৯. ২৩.৬ বিলিয়ন ডলার

খনি ব্যবসায়ী জিনা রাইনহাট

নারীদের শীর্ষ ধনীর তালিকায় নবম স্থানে আছেন অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ধনী জিনা রাইনহার্ট। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি বিশ্বখ্যাত হ্যানকক প্রসপেক্টিং গ্রুপের মালিক ও চেয়ারম্যান। অস্ট্রেলিয়ায় জিনা রাইনহার্টকে লৌহমানবী ডাকা হয়। বিশাল সম্পত্তির উত্তরসূরি হয়েছিলেন তিনি। ১৯৯২ সালে জিনা তার পিতা লৌহ খনির ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ল্যাং হ্যানককের কাছ থেকে ব্যবসায়িক দায়িত্ব বুঝে নেন। পরিবারের ট্রাস্ট তহবিল নিয়ে তাঁর সঙ্গে ছেলে জন হ্যানকক ও মেয়ে বিয়াংকা রাইনহার্টের দীর্ঘ আইনি লড়াই চলে। তবে এর মীমাংসা হয়েছে এবং দুই সন্তান ২৯২ কোটি ডলারের ট্রাস্ট তহবিলের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। সেই মীমাংসার অংশ হিসেবে রাইনহার্ট সম্পত্তির ৫০ শতাংশ মৃত্যুর আগে বা পরে দান করে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখছেন। ওই সম্পদ ক্যান্সার চিকিৎসায় গবেষণা ও অলিম্পিক খেলাধুলার মতো খাতে কাজে লাগানো হবে বলে জানিয়েছেন।

 

১০. ২৩.৩ বিলিয়ন ডলার

পিএলসির আইরিস ফন্টবোনা

স্বামীর মৃত্যুর পরে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রচুর সম্পদের মালিক হয়েছেন এমন অনেকেই রয়েছেন এই তালিকায়। তেমনি আরও একজন হলেন আইরিস ফন্টবোনা। নারীদের শীর্ষ ধনীর তালিকায় দশম স্থানে আছেন আইরিস ফন্টবোনা। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের মধ্যে তার অবস্থান শীর্ষ ৭৪-এ। আইরিস ফন্টবোনার স্বামী ছিলেন প্রয়াত আন্ড্রিনিকো লুসিক। ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধ করে একসময় পরাজিত হন আন্ড্রিনিকো লুসিক। তার মৃত্যুর পর আন্ড্রিনিকো লুসিকের খনি এবং পানীয় ব্যবসার দায়িত্ব নেন আইরিস ফন্টবোনা ও তাদের তিন পুত্র। তারা সবাই মিলে এখন এন্টোফাগস্টা পিএলসি নামের একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। এই প্রতিষ্ঠানের চিলিতে কপার খনি ও লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে বিনিয়োগ রয়েছে। তবে সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে বেশি আগ্রহ আইরিস ফন্টবোনার।