Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ২৩:৫৮

সিরাজগঞ্জ-৩

বিএনপিতে আবদুল মান্নান তালুকদার আওয়ামী লীগে মিলন নাকি নতুন মুখ

আবদুস সামাদ সায়েম, সিরাজগঞ্জ

বিএনপিতে আবদুল মান্নান তালুকদার আওয়ামী লীগে মিলন নাকি নতুন মুখ

নির্বাচনের মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ বেড়ে গেছে। গত কদিন ধরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকা ছেড়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এলাকায় নিজেদের স্ব স্ব অবস্থান তুলে ধরে দলের হাইকমান্ডে লবিং গ্রুপিং চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে উভয় দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ, দলের দুঃসময়ের কাণ্ডারি, কর্মীবান্ধব ও সাধারণ মানুষের কাছে সজ্জন হিসেবে পরিচিত এমন ব্যক্তিকে যেন মনোনয়ন দেওয়া হয়। দলীয় সূত্র বলছে, আসনটিতে বিএনপি থেকে বিগত সময়ের চারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান তালুকদার মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান সাংসদ পলাশডাঙ্গা যুব-শিবিরের সহঅধিনায়ক গাজী ম.ম আমজাদ হোসেন মিলনকেই বেছে নিচ্ছেন দলের হাইকমান্ড। তবে তিনি কোনো কারণে বঞ্চিত হলে নতুন মুখ আসছে। আসনটিতে বিএনপি থেকে আরও তিনজন প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগ থেকে প্রায় ১৩ জন দলের মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেছেন।

বিএনপি দলীয় সূত্র মতে, ১৯৯১ সাল থেকে পর পর চারবার আবদুল মান্নান তালুকদার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। সংসদ সদস্য থাকাকালীন রায়গঞ্জ-তাড়াশ সলঙ্গায় রাস্তাঘাট ও স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন সেক্টরে উন্নয়ন করেন। কিন্তু ২০০৮ সালে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইসহাক হোসেন তালুকদারের কাছে হেরে যান।  একাদশ নির্বাচনে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে নেতা-কর্মীরা আবদুল মান্নান তালুকদারের পাশে ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। তিনিই আসনটিতে মনোনয়ন পাবেন বলে নেতা-কর্মীরা ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়ে গেছেন। তবে আসনটিতে আবদুল মান্নান তালুকদার ছাড়াও তাড়াশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার সেলিম জাহাঙ্গীর মনোনয়ন পাবার জন্য লবিং-গ্রুপিংয়ের পাশাপাশি ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়াও আসন থেকে বিএনপি নেতা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আয়নুল হক ও বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম শিশির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে কাজ করছেন।

আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সাল থেকে আসনটি সংসদ সদস্য আলহাজ ইসহাক হোসেন তালুকদারের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের দখলে যায়। ২০১৪ সালের ৬ অক্টোবর তার মৃত্যুর পর বীর মুক্তিযোদ্ধা তাড়াশ উপজেলা আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি ম.ম আমজাদ হোসেন মিলন মনোনয়ন পান। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হলেও তিনি রায়গঞ্জ-তাড়াশের উন্নয়নে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। প্রতিটি গ্রামে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। বিশেষ করে ডিজিটাল স্কুল ব্যবস্থা চালু করে উপজেলায় চমক সৃষ্টি করেছেন।  বিএনপির আবদুল মান্নানের সঙ্গে লড়তে হলে আমজাদ হোসেন মিলনের বিকল্প নেই বলে মনে করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ। এ ছাড়াও এ আসনে নৌকা পেতে চান সলঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা লুত্ফর রহমান দিলু, কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুইট, প্রয়াত সাবেক এমপি ইসহাক হোসেন তালুকদারের ছেলে অ্যাডভোকেট ইমরুল হোসেন ইমন তালুকদার, স্বাচিপ নেতা ডা. আবদুল আজিজ সরকার, রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার রায়, রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাদি আলমাজি জিন্নাহ্, সাধারণ সম্পাদক শারিফুল আলম শরিফ, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ হৃদয়, সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক আবদুল হালিম খান দুলাল, তাড়াশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হক, তাড়াশ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মনি, রায়গঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম হোসেন সুমন সরকার, রায়গঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান হাবিব সুজন সরকার ও সাবেক যুবলীগ আলহাজ সাইদুল ইসলাম খান পল। তবে দলীয় নেতা-কর্মীরা বলছেন, এবার আসনটিতে মিলনই মনোনয়ন পাচ্ছেন নাকি নতুন কোনো মুখ মনোনয়ন নিয়ে মাঠে নামবেন। তবে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী আবদুল মান্নান তালুকদারের সঙ্গে লড়াইয়ে মাঠে আমজাদ হোসেন মিলন পারফেক্ট বলে নেতা-কর্মীরা মনে করছেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর