Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৪ জুন, ২০১৬ ০১:৩৭
ইত্যাদির ঈদ আনন্দে বিদেশিরা
শোবিজ প্রতিবেদক
ইত্যাদির ঈদ আনন্দে বিদেশিরা
‘ইত্যাদি’ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথিরা

ইত্যাদি মানেই দর্শক ক্রেজ। দেশে এই প্রথম কোনো টিভি অনুষ্ঠান দীর্ঘসময় অবারিত জনপ্রিয়তায় একটানা প্রচার হচ্ছে। আর এর মূল কারণ জনপ্রিয় টিভি ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত। তার মেধা ও মনন ইত্যাদিকে তুমুল দর্শকপ্রিয় করে তুলেছে। স্টুডিওর চার দেয়াল থেকে টিভি অনুষ্ঠানকে বের করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে ইত্যাদি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য নিয়মিতভাবে তুলে ধরছে। পাশাপাশি দুই যুগ ধরে বাংলাদেশে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের দিয়ে লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

নিবেদিতপ্রাণ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত বিদেশিদের দিয়ে তাদের ভাষা ‘ইংলিশ’-এর বদলে বাংলা ভাষায় গ্রামের সহজ-সরল মানুষের চরিত্রে অভিনয় করিয়ে তুলে ধরেন আমাদের লোকজ সংস্কৃতি। গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী লাঠিলেখা, হা-ডু-ডু, ফুটবল, ডাংগুলি, বাঁশের সাঁকো হাতল ছাড়া পার হওয়া, নদীতে সাঁতার কাটা, দ্রুত গাছে উঠা— এসব গ্রামীণ খেলা যেমন বিদেশিদের দিয়ে দেখানো হয়েছে, তেমনি আমাদের সংস্কৃতি, লোককাহিনী, চলচ্চিত্র ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বিদেশিদের দিয়ে নির্মিত হয়েছে বিভিন্ন পর্ব। ইত্যাদির চরিত্রানুযায়ী বিদেশিদের দিয়ে করানো নানা ঘটনার পরিসমাপ্তি ঘটে চমৎকার একটি মেসেজের মাধ্যমে। কখনোবা দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশে এই বিদেশিরাই জারি-সারি, পল্লীগীতি, ভাটিয়ালী গানের পক্ষে কথা বলেন। অপসংস্কৃতির হাত থেকে বাঁচাতে মানুষকে সচেতন করেন। আন্তরিকতা ও উৎসাহের সঙ্গে বিদেশিরা এই পর্বে অংশগ্রহণ করেন। বিদেশি হয়েও তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব এসব খেলা এবং অভিনয়ে যখন তারা অংশগ্রহণ করেন তখন দর্শকরা যেমন বিস্মিত হন, তেমনি আনন্দও পান।

প্রতিবছরই দর্শকরা যেমন এই পর্বটির জন্য অপেক্ষায় থাকেন, তেমনি ঢাকায় বসবাসরত বিদেশিরাও অপেক্ষা করতে থাকেন কখন তাদের ডাক পড়বে ইত্যাদি থেকে। শুধু তাই নয়, ঢাকার বিদেশি পাড়ায় একটি জনপ্রিয় নাম ইত্যাদি। বছরের এই সময়টায় বিদেশিদের ছুটি থাকে বলে তাদের পাওয়া খুবই কঠিন। অনেকেই ইত্যাদিতে অংশগ্রহণ করার জন্য ছুটি ভোগ করেন না। তারা মনে করেন এটি তাদের জীবনে একটি নুতন অভিজ্ঞতা এবং আনন্দ। ইত্যাদির প্রতি বিদেশিদের ভালোবাসা এতই প্রকট যে, প্রতি বছরই নতুন নতুন বিদেশি নাগরিক এসে এই পর্বে অংশগ্রহণ করেন।   পর্বটিকে সফল করার জন্য ২-১ জন পুরনো যারা থাকেন তারাই সংগঠিত করেন বাকিদের। ৩-৪ দিনের মধ্যে সদস্য সংখ্যা বেড়ে অর্ধ শতাধিক হয়ে যায়। প্রতি বছরই তৈরি হয় ‘ইত্যাদি বিদেশি টিম’। এবারেও তৈরি হয়েছে ‘ইত্যাদি বিদেশি টিম-২০১৬’।

প্রতি বছরের মতো বিদেশিদের নিয়ে এবারও ইত্যাদিতে রয়েছে ব্যাপক আয়োজন। এবারের বিষয় বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে। হানিফ সংকেতের নির্দেশনায় বিদেশিরা এবারও চমৎকার অভিনয় করেছেন। এবারের পর্বে অংশগ্রহণ করেছেন পৃথিবীর নানা দেশের ৮২ জন বিদেশি নাগরিক। এদের মধ্যে নৃত্যে অংশগ্রহণ করেছেন ৪০ জন এবং বাকিরা অভিনয়ে।

বিদেশিদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাইলে হানিফ সংকেত বলেন, এরা অপেশাদার, তবে অনেক পেশাদার শিল্পীর এদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। বিশেষ করে তাদের সময়জ্ঞান, কাজের প্রতি নিষ্ঠা, কষ্টসহিষ্ণুতা ও আন্তরিকতা। সবকিছুই আমাকে মুগ্ধ করেছে। মহড়ার সময় যদি থাকত সন্ধ্যা ৭টায় ওরা তার আগেই পৌঁছে যেত। তাদের কষ্টসহিষ্ণুতা দেখলেও অবাক হতে হয়। শীতপ্রধান দেশের নাগরিক হয়ে প্রচণ্ড রেদের মধ্যে শুটিং করেছেন। একবারও বলেননি একটু বিশ্রাম নেই। বরং আমি বিশ্রাম দিতে চাইলেও বলতেন- ‘আপনার সময় কম, অনেক কাজ করতে হবে। আমাদের জন্য চিন্তা করবেন না’। আসলেই আমি ওদের আন্তরিকতায় মুগ্ধ। অর্থাৎ পেশাদার শিল্পী না হলেও এদের আচরণে ছিল পেশাদারিত্ব। অবশেষে সময় শঙ্কা, বৃষ্টি শঙ্কা ও তাপ যন্ত্রণা পেরিয়ে বিদেশিদের আন্তরিক সহযোগিতায় সন্ধ্যা নামার আগেই শেষ হলো ‘ইত্যাদি ২০১৬ বিদেশি টিমের’ মাধ্যমে এবারের বিদেশি পর্ব। তবে এখানেই শেষ নয়, অনুষ্ঠান ধারণের এক সপ্তাহের মধ্যেই হানিফ সংকেত একটি ইমেইল বার্তা পান। ইত্যাদি বিদেশি টিমের জন্য বিশেষ ইফতারির দাওয়াত দিয়ে বিদেশিদের পক্ষ থেকে লিখেছেন, মাইকেল, মাইরিয়ম ও নেইলস-ইত্যাদির মহড়া, শুটিং, সেই আনন্দঘন দিনগুলোর কথা মনে করে তোমরা নিশ্চয়ই এখন শূন্যতায় ভুগছ? সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণ আর অনুভূতির কথা বলতেই সবাই মিলিত হন টিমেরই এক সদস্য আন্নার গুলশানের বাড়িতে। হানিফ সংকেত বলেন, ইফতারের পর বিদেশিদের পক্ষ থেকে আমাকে একটি সারপ্রাইজ দেওয়া হলো। যা দেখে আমি নিজেও অভিভূত। একটি কাঠের ফ্রেমে ‘ইত্যাদি ২০১৬ বিদেশি টিম’-এর সঙ্গে আমাকে নিয়ে তোলা একটি গ্রুপ ছবি এবং শুটিংয়ের সময় তোলা আরও কয়েকটি সুন্দর ছবি দিয়ে ফটো ফ্রেমটি বাঁধানো হয়। যেখানে লেখা রয়েছে তাদের শ্রদ্ধা, ভক্তি, ভালোবাসার কথা। ‘আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। হোয়াট এন আনফরগেটেবল এক্সপেরিয়েন্স! কিপ আপ দিস গ্রেট ওয়ার্ক। (কি অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। এই মহৎ কাজ চালিয়ে যান। ) পরিশেষে লিখেছেন, আপনাকে ভালোবাসা-শ্রদ্ধা। হানিফ সংকেত বলেন, আসলেই মাত্র কয়েকদিনের পরিচয়ে কয়েকদিনের মেলামেশায় বিদেশিদের সঙ্গে যে আত্মিক বন্ধন হয় তা কখনোই ভোলার নয়। বিদেশে চলে গেলেও ওরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে। জানতে চায়, ‘ইত্যাদি কেমন আছে? এগিয়ে যান-কিপ ইট আপ। আর আমিও দেশে বা বিদেশে যেখানেই থাকি সময়-সুযোগ পেলে ওদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ওরা যেমন আমাদের ভুলতে পারে না, আমিও তেমনি ওদের ভুলতে পারি না। ইত্যাদি প্রচারিত হবে ঈদের পরদিন রাত ১০টা ১০ মিনিটে, বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow