পবিত্র রমজান উপলক্ষে বসুন্ধরা শুভসংঘ নান্দাইল উপজেলা শাখার আয়োজনে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার প্রত্যয়ে এক হৃদ্যতাপূর্ণ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি শহীদ স্মৃতি আদর্শ ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।
ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে রমজানের তাৎপর্য, সংযমের শিক্ষা এবং আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শুভ দত্ত এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান বিজয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি ইসতিয়াক হাসান নাসিম ও আরিফ রাব্বানী, দপ্তর সম্পাদক সাদনান সাদি, সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল হক সৌরভ, অর্থ সম্পাদক তপু আকন্দ এবং আপ্যায়ন সম্পাদক অভি দত্ত। এছাড়াও শুভসংঘের বন্ধু জাবির আহাম্মেদ, রাইয়ান সাজিম, মো. রাব্বানী, জিমাঈম ইসলাম তামিম, মো. নূর জামাল, রাকিবুল হাসান সায়িম, সৌহার্দ্য পাল, ইমতিয়াজ হাসান রাফি, লোকমান হাকিম, তানভির, তামিম হাসান মন্ডল, হুজরাত বিন মাহিসহ অনেক শুভার্থী বন্ধু অংশগ্রহণ করেন। এ সময় আহসানুল্লাহ নূর, রেজাউল ইসলাম, রাকিবুল ও তাহমিদসহ আরও অনেকে আয়োজনে সম্পৃক্ত ছিলেন।
আলোচনা পর্বে নান্দাইল উপজেলা শাখার উপদেষ্টা ও দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি আলম ফরাজি বলেন, “রমজানের রোজা ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম। ঈমান, নামাজ ও যাকাতের পরই রোজার অবস্থান। রোজার আরবি শব্দ ‘সিয়াম’, যার অর্থ বিরত থাকা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও রোজাভঙ্গকারী সকল কাজ থেকে বিরত থাকাই রোজার মূল উদ্দেশ্য। সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমান নর-নারীর জন্য রমজানের রোজা ফরজ।”
এ সময় সাধারণ সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান বিজয় বলেন, “রোজা শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং চোখ, কান, জিহ্বা ও অন্তরের সংযমের মাধ্যমেই একজন মুমিন প্রকৃত তাকওয়া অর্জন করতে পারেন। আত্মশুদ্ধি, সহমর্মিতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অনুশীলনই রমজানের মূল বার্তা।”
সভাপতি শুভ দত্ত বলেন, “ইফতার মাহফিলটি শুধু ধর্মীয় অনুশাসন পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ছিল পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার এক অনন্য আয়োজন।” তিনি ভবিষ্যতে শুভসংঘের সামাজিক, সেবামূলক ও কল্যাণধর্মী কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
আয়োজনটি এক আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়। অংশগ্রহণকারীরা একসঙ্গে ইফতার গ্রহণের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া