মানবিক সহানুভূতি নিয়ে এবার ক্যান্সারে আক্রান্ত অসহায় হালিমা বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ আনোয়ারা উপজেলা শাখা। বুধবার পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ক্যান্সারে আক্রান্ত অসহায় হালিমা বেগমের পরিবারের জন্য ইফতার ও সাহরির প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা।
স্বামীহারা হালিমা বেগম দীর্ঘ তিন বছর ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন। অসহনীয় শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তা যেন তার জীবনের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। তার ১৫ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন। দুই মেয়ের মধ্যে একজন স্বামীর সংসার হারিয়ে ছোট সন্তানকে নিয়ে মায়ের কাছেই আশ্রয় নিয়েছেন।
মায়ের চিকিৎসা ও সেবাযত্ন করতে গিয়ে তার মেয়ে শারমিন বাধ্য হয়েছেন গার্মেন্টসের চাকরি ছেড়ে দিতে। বর্তমানে কখনো বাসাবাড়িতে কাজ করে, কখনো মানুষের সহায়তায়-অত্যন্ত কষ্টে কোনোমতে দিন পার করছে পরিবারটি।
সম্প্রতি হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফেরার পর দেখা যায়, তাদের ঘরে একমুঠো খাবারও নেই। অনিশ্চয়তা আর দুশ্চিন্তার মধ্যেই আল্লাহর ওপর ভরসা করে দিন কাটাচ্ছিলেন হালিমা ও তার পরিবার। ঠিক এমন সংকটময় মুহূর্তেই রমজানের সহমর্মিতার বার্তা নিয়ে তাদের পাশে এসে দাঁড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘ।
বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে চাল, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, সেমাই, নুডুলস, আটা, ময়দা, মুড়ি, চিনি, লবণসহ ইফতার ও সাহরির জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
উপহার পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন হালিমা বেগম। অশ্রুসজল চোখে তিনি বলেন, 'আজ বসুন্ধরা শুভসংঘের ভাইয়েরা আমার পরিবারের জন্য খাবার নিয়ে এসেছেন। আমি সত্যিই অনেক খুশি। আল্লাহ যেন তাদের উত্তম প্রতিদান দেন। আমাদের এই দুঃসময়ে তারা পাশে দাঁড়িয়েছেন-এটা আমি কখনো ভুলবো না।'
নিজের জরাজীর্ণ ঘরের কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, 'আমাদের ঘরটা খুবই খারাপ। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি ঢুকে যায়। খুব কষ্টে এখানে থাকছি। সমাজের বিত্তবান মানুষদের কাছে আমার অনুরোধ-যদি কেউ আমার ঘরটা মেরামতে সাহায্য করেন, তাহলে পরিবার নিয়ে একটু নিরাপদে থাকতে পারবো।'
এসময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ আনোয়ারা উপজেলা শাখার সভাপতি সাফায়েত রায়হান শিহাব, ক্রীড়া সম্পাদক মিনহাজ উদ্দিন সাগর, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক ইমদাদুল হক শাওন, সদস্য হাসিবুল হাসান এবং স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশন আনোয়ারা শাখার সাধারণ সম্পাদক আজিজ খান।
বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি সাফায়েত রায়হান শিহাব বলেন, 'মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। হালিমার মতো মানুষের মুখে সামান্য হাসি ফোটাতে পারাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।'
স্থানীয়রা বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, 'এমন মানবিক কর্মকাণ্ড সমাজে সহমর্মিতা, ভালোবাসা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রমজানের এই পবিত্র সময়ে হালিমা বেগমের মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ আবারও প্রমাণ করেছে-মানুষ মানুষের জন্য, মানবতাই সবচেয়ে বড় পরিচয়।'
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া