বসুন্ধরা শুভসংঘ ক্ষেতলাল শাখার আয়োজনে ‘শুভ কাজে সবার পাশে’ স্লোগানকে সামনে রেখে আজ বুধবার উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম বাশথুপীতে অসহায় ও দুস্থ বিধবা নারীদের মাঝে অগ্রিম ঈদ উপহার হিসেবে শাড়ি প্রদান করা হয়েছে।
স্বামী হারানোর পর কেউ মানুষের বাড়িতে কাজ করে, কেউ দিনমজুরির অল্প আয়ে সংসার চালান। অনিয়মিত উপার্জনে দুবেলা খাবার জোটানোই যেখানে কঠিন, সেখানে ঈদের জন্য নতুন কাপড় কেনা প্রায় অসম্ভব। অনেকেই বছরের পর বছর একই শাড়ি সেলাই করে পরেন। ঈদের আগেই নতুন শাড়ি হাতে পেয়ে উপকারভোগীদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আবেগমাখা স্বস্তির হাসি।
তেমনই এক বিধবা নারী মোছা. ফেরেজা বেগম বলেন, “ ঈদ আলে নিজের জন্য কিছু কিনা পাইনা আজ এই শাড়ি পাচি মনে হচে ঈদের দিন।"
উপহারপ্রাপ্ত বিধবা মোছা. হামিদা খাতুন বলেন, “হামার মতো মানুষের জন্য ঈদ মানে চিন্তা আর দুশ্চিন্তা। আগের মতো শরীর ভালো না তাই কাজে যেতে পারি না । হামাগরে জন্য তোমরা ঈদের উপহার আনিচিন হামরা অনেক খুশি বাবা। আল্লাহ তোমাগরক ভালো করুক। "
আরেক উপহারপ্রাপ্ত নারী মোছা. ছারভান বেগমের কণ্ঠে কৃতজ্ঞতার সুর, “পুরাতন শাড়ি পিন্দে কত ঈদ করিচি এতোদিন । নতুন শাড়ি হাতত পায়ে মনে হওচে আজ ঈদ, হামাগরে কষ্ট বোঝে তোমরা যে আচিন হামরা অনেক খুশি।
বসুন্ধরা শুভসংঘ ক্ষেতলাল শাখার সভাপতি এম রাসেল আহমেদ বলেন, “ঈদের আনন্দ যেন কোনো ঘরে ফিকে না থাকে এই ভাবনা থেকেই আমাদের ক্ষুদ্র প্রয়াস। সমাজের অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। ভবিষ্যতেও মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।”
সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন বলেন, “বিধবা ও দুস্থ নারীরা সমাজের অবহেলিত অংশ। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারলেই আমাদের উদ্যোগ সার্থক।”
স্থানীয় ইমাম আবদুল মোমেন বলেন, “ইসলামে অসহায় ও বিধবাদের সহযোগিতার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এমন উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা বাড়ায় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ সুগম করে।”
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রচার সম্পাদক আম্মার হোসেন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হেলেনা আক্তার, সাধারণ সদস্য মনোয়ার হোসেন, রওশনারা রিফাহ ও ফাহমিদা রোশনি প্রমুখ।
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া