কেউ বললেন আমি পুলকিত। কেউ বললেন এটা তো দারুণ আইডিয়া। আবার অনেকের মুখে ভবিষ্যতবাণী, ‘আশা করি এ ধরনের উদ্যোগ সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়বে।’ সহযোগিতার ঘোষণা দিলেন অনেকে। উদ্যোগের খবর জেনে ছুটে গিয়ে মুগ্ধতার কথা জানালেন কেউ কেউ।
এমন সব আলোচনা বসুন্ধরা শুভসংঘের রেলওয়ে স্টেশন লাইব্রেরিকে ঘিরে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে উদ্বোধন হয়েছে ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ রেলওয়ে স্টেশন লাইব্রেরি’। একটি আলমীরায় বরেণ্য লেখক ইমদাদুল হক মিলনের ৮৫টি ও প্রয়াত হুয়ামুন আহমেদের লেখা ২৫টি বই দিয়ে লাইব্রেরির যাত্রা শুরু হয়।
বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান বই উপহার দেওয়ার বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করেন। নিজ উদ্যোগেই আলমীরা কেনার জন্য অর্থ দেন সৌদি প্রবাসী আখাউড়া রাধানগরের বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন।
সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় রেলওয়ে স্টেশনের ভিআইপি কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিক ও রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ লাইব্রেরির উদ্বোধন করেন। এ সময় আখাউড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. মানিক মিয়া, স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট মো. নুরুন্নবী, রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম, জুটন বনিক, সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুন্নবী ভূঁইয়া, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জলিল, সাধারন সম্পাদক মো. রাসেল আহমেদ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মহিউদ্দিন মিশু, সাধারণ সম্পাদক জোনায়েদ হোসেন পলক, সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম সাগর, মো. হাবিবুর রহমান, বাদল আহম্মেদ খান, মো. ময়নুল হোসেন, আশীষ সাহা, মো. ইসমাইল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন শেষে হওয়া আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন কালের কণ্ঠের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ পাল বাবু। এ সময় সাংবাদিক হাবিবুর রহমান ও সাংবাদিক আশীষ সাহা ঘোষণা দেন যে, এবারের বই মেলা থেকে কিছু বই এনে লাইব্রেরিতে রাখবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট নুরুন্নবী ভূঁইয়া বলেন, ‘ট্রেনের জন্য অপেক্ষারত কেউ সময় পেয়ে যদি স্টেশনে বসে বই পড়েন তাহলে এর চেয়ে ভালো আর কি হতে পারে।’ রেলওয়ে স্টেশনে এমন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য তিনি বসুন্ধরা শুভসংঘ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এক কথায় বলবো যে আমি পুলকিত। এটি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। সত্যিই এ ধরনের কার্যক্রম প্রশংসার দাবি রাখে। আমরা সবাই মিলে এ লাইব্রেরির খেয়াল রাখবো, যত্ন নেবো।’
প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. মানিক মিয়া বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগ আখাউড়ার সম্মান বৃদ্ধি করেছে। এমন আয়োজনের উপস্থিত হতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে। আমি মনে করি এ উদ্যোগটি সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়া দরকার।’
উদ্বোধনের পর পরই স্টেশনে গিয়ে লাইব্রেরি দেখে উদ্যোগের প্রশংসা করেন আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদ।
জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মুনসুর মিশন বলেন, ‘এটা দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে। এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ খুবই প্রয়োজন। '
বিএনপি নেতা ইয়ার হোসেন শামীম বলেন, ‘আমাদের উচিত এ ধরনের কাজে সহযোগিতা করা।’
এছাড়া যুবদল নেতা জাবেদ আহমেদ ভূঁইয়া, জহর লাল চৌহানসহ আরো অনেকেই লাইব্রেরির উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তো আসলে গল্প, উপন্যাসের বই পড়তে ভুলেই গেছি। বাস্তবতা যখন এই তখন স্টেশনে লাইব্রেরি স্থাপনের বিষয়ে সত্যি খুব প্রশংসার দাবি রাখে। বিষয়টি জেনে আমার খুব ভালো লাগছে।’
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া