শিরোনাম
প্রকাশ : ১ অক্টোবর, ২০২০ ১৫:৪৮

রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি মামলার তদন্তে সত্যতা মেলেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি মামলার তদন্তে সত্যতা মেলেনি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গ্রাফিক্স ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিরুল মোমেনীন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘ছাত্রীর শ্লীলতাহানি’র মামলার তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তদন্ত কর্মকর্তার এই প্রতিবেদন গ্রহণ করেছেন।
 
প্রতিবেদনে বাদীর করা এজাহারের অভিযোগের কোনো সত্যতা না পাওয়ায় আসামি আমিরুল মোমেনীন চৌধুরীকে মামলা থেকে অব্যাহত প্রদানের আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা নগরীর চন্দ্রিমা থানার উপ-পরিদর্শক মো. রাজু আহমেদ।
 
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার বাদীর এজাহারনামীয় চারজন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও কেউ এজাহারে বর্ণিত ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান। তারা ওইদিন ঘটনাস্থলে আসামি আমিরুল মোমনীন চৌধুরীকে দেখেননি এবং তাদেরকে না জানিয়ে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে উল্লেখ করে রাজশাহী নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে হাজির হয়ে এফিডেভিট করেছেন।
 
এছাড়া ঘটনাস্থল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ভবন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা কেউই এ ধরনের ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, এজাহারে বর্ণিত সময়ে আসামি উদয়ন নার্সিং কলেজে ২০১৯ সালের বিএসসি ইন নার্সিং পরীক্ষায় পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ফলে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে মামলার এজাহার দায়ের করায় উক্ত মামলা থেকে আসামিকে অব্যাহতি প্রদানের প্রার্থনা করছি।
 
এসআই রাজু আহমেদ বলেন, ‘বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছি। কিন্তু এজাহারে বর্ণিত অভিযোগের ন্যূনতম সত্যতাও পাইনি। এজন্য আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে মামলা থেকে আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেছি। প্রতিবেদনের সঙ্গে বিভাগের সভাপতিসহ ১১ জন শিক্ষক, ৭ জন শিক্ষার্থীসহ ২০ জন সাক্ষীর জবানবন্দী যুক্ত করেছি।’
 
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফয়সাল নয়ন বলেন, আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে নিয়ম অনুযায়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়েছেন। আগামী ১১ অক্টোবর সেখানে শুনানি হবে। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা হওয়ায় আসামির অব্যাহতি প্রদান এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
 
মামলার বাদী ওই ছাত্রী বলেন, ‘মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন হয়েছে শুনেছি। তবে ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার কারণে মামলার বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে পারিনি।’
 
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৩ জন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানুর কাছে অধ্যাপক আমিরুল মোমনীনের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি ও মানসিকভাবে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ করেন।
 
বিডি প্রতিদিন/ আবু জাফর

আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর