শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০১:৫৬

রাজধানীতে জাল রুপির কারখানা

মুদ্রা তৈরির বিভিন্ন উপকরণসহ গ্রেফতার ৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে জাল রুপির কারখানা

বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ছিলেন তারা। সেখানেই তাদের অনেকের জালমুদ্রা তৈরির হাতেখড়ি হয়। জামিনে বের হয়ে প্রতি মাসে অন্তত এক কোটি ভারতীয় রুপি তৈরি ও বিক্রির টার্গেট নিয়ে কাজ শুরু করেছিল তারা। এরই মধ্যে শুরুও হয়েছিল সব কার্যক্রম। তবে বিধি বাম! খবর চলে যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে। উত্তর বিভাগের উপকমিশনার মশিউর রহমানের নির্দেশনায় সহকারী কমিশনার শাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল সবুজবাগ কদমতলার ৩৫/১ নম্বর বাড়ির ছয় তলার এ/৬ নম্বর ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে একটি মিনি কারখানার সন্ধান পায়। ৪৯ লাখ ভারতীয় রুপি এবং মুদ্রা তৈরির বিভিন্ন উপকরণসহ গ্রেফতার করে আটজনকে। গ্রেফতারকৃতরা হলো- বশির উদ্দিন (৫১), মনিরুজ্জামান (৩৫), মনির হোসেন (৩২), আ. কাদের @ আল আমিন (৬২), এনামুল হক আশারী (৩২), আকবর আলী (৩০), কবির হোসেন (৩৫) এবং সোহেল মাহমুদ (২৮)। গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে উপকমিশনার মশিউর রহমান জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে এই রুপি ভারতে পাচার করা হতো। চক্রের প্রধান বশিরুল্লাহ বছর কয়েক আগে মাদকসহ গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ছিলেন। আর মনির গ্রেফতার হয়েছিলেন চেক জালিয়াতির মামলায়। জেলের ভিতরে জাল মুদ্রা তৈরি করার দীক্ষা পান তারা। এক সময় জামিনে বের হয়ে এসে শুরু করেন মুদ্রা জাল করার কাজ। বাসাবো কদমতলার ছয়তলার এই ফ্ল্যাটে ঢুকে মুদ্রা বানানো অবস্থায় গ্রেফতার হন আটজন।

অভিযানের সময় গ্রেফতার সোহেল মাহমুদ ঘটনাস্থলে থাকা গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, দুরুদ জামান নামে একজন লোক আছে। সে আমাদের শেখায় কীভাবে এটার কাজ করতে হয়। সেখান থেকে শেখার পর বশির আমাকে অফার করে যে, মাসে অনেক টাকা আয় করা যাবে। জানা গেছে, ঢাকায় বাসা ভাড়া করে ভারতীয় জালরুপি তৈরির কারখানাটি পরিচালনার সার্বিক দায়িত্বে ছিল মনির হোসেন এবং মনিরুজ্জামান। তবে গ্রেফতার বশির উদ্দিন ওই কারখানাটির অর্থের যোগানদাতা ও প্রকৃত মালিক। কবির হোসেন মূল কারিগর এবং তার সহযোগী সোহেল। তারা জালরুপি তৈরির বিশেষ ধরনের মূল কাগজ যাতে বিভিন্ন রকমের জল ছাপ, নিরাপত্তা সুতা স্থাপন, প্রিন্ট দেওয়ার কাজসহ যাবতীয় কার্যক্রমে থাকেন এবং আল আমিন জালরুপি তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামাদি সরবরাহ করতেন।

 এনামুল হক আশারী ও আকবর আলী কারখানার মালিক বশিরের কাছ থেকে প্রতি লাখ জালরুপি ২১ হাজার টাকায় কিনে ভারতীয় নাগরিক মোহনা, একরামুল এবং হব্বুর কাছে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর