শিরোনাম
সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২২ ০০:০০ টা

রাজশাহীতে পুকুরে উজাড় কৃষিজমি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহীর অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। তবে একটি অসাধু চক্রের পরিকল্পিত কৌশলের কাছে পরাস্ত হয়ে রাজশাহীর কৃষিজমির মালিকরা অনেকটাই বাধ্য হয়ে তাদের আবাদি জমিতে পুকুর করতে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে রাজশাহীর ভূ-প্রকৃতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ার পাশাপাশি ফসল উৎপাদনেও ঘাটতি দেখা দিতে পারে দেশে। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দেওয়া তথ্যমতে, রাজশাহী জেলায় গড়ে প্রতি বছর প্রায় ৮০০ হেক্টর (প্রায় ২ হাজার ৪০০ বিঘা) পরিমাণে কৃষিজমি কমে আসছে। যার মধ্যে শুধু ২০১৯-২০ অর্থবছরেই কমেছে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর কৃষিজমি। স্থানীয় জমির মালিক ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন এক একটি পুকুরের আয়তন ২০ থেকে ৫০ বিঘা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ। প্রভাবশালীরা প্রথমে বিস্তীর্ণ ফসলি জমির মধ্যে যে জমিতে ফসল উৎপাদন তুলনামূলক কম হয় ওই জমি বাছাই করে সেখানে কৌশলে পুকুর করা শুরু করে।

এরপর ওই পুকুরের কারণে আশপাশের জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তখন ওসব জমির মালিকরা ফসল উৎপাদনে লোকসানে পড়ে।

এতে তারা বাধ্য হয়ে তাদের আবাদি জমি প্রভাবশালী ওই পুকুর খননকারীকে ইজারা দিতে বাধ্য হয়। কিছুদিন আগেও রাতের আঁধারে পুকুর খননের অভিযোগ পাওয়া গেলেও এখন প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে প্রকাশ্যে দিন-রাত এক নাগাড়ে চলছে খননকাজ।        

পুকুর করতে গিয়ে কৃষিজমির উপরিতলের বিপুল পরিমাণ মাটি পাঠানো হচ্ছে ইটভাটায়। গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করে ট্রাক্টর বা ট্রাকে করে পুকুর খননের মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো। চলাচলে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে গ্রামবাসীকে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, আপাতদৃষ্টিতে ফসলের চেয়ে মাছকেই লাভজনক মনে করছেন অনেকে। তবে আবাদি জমি নষ্ট করে মাইলের পর মাইল অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন হতে পারে এ অঞ্চলের জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ। তিনি বলেন, ভূ-গর্ভস্থ পানির অপরিকল্পিত ব্যবহারের ফল ভোগ করছে তানোর-গোদাগাড়ীর মানুষ। কৃষিজমিতে অপরিকল্পিত পুকুর খনন অদূর ভবিষ্যতে বিপদে ফেলবে।        

জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল বলেন, পুকুর খনন বন্ধে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ অবৈধভাবে পুকুর খনন করলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর