শিরোনাম
সোমবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৪ ০০:০০ টা

ফের সংগঠিত হওয়ার চেষ্টায় নব্য জেএমবি

রাজধানীতে শীর্ষ দুই নেতা গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে নব্য জেএমবির নেটওয়ার্ক বিধ্বস্ত করার দাবি করেছিলেন সংশ্লিষ্টরা। তবে গোয়েন্দাদের ফাঁকি দিয়ে নিজেদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছিল নব্য জেএমবির সদস্যরা। আবারও নিজেদের অবস্থান জানান দিতে নানা পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছিল তারা। এমনি একটি বৈঠকের খবর পেয়ে রাজধানীর ডেমরা থেকে গ্রেফতার করা হয় সংগঠনের শীর্ষ দুই নেতা মো. ইউসুফ ওরফে ইউসুফ হুজুর (৩৮) ও তার সহযোগী মো. জহিরুল ইসলাম ওরফে জহিরকে (৪৩)। এ সময় তাদের কাছ থেকে সংগঠনটির মুখপত্র নাবা, ১০টি ডেটোনেটর, বেশকিছু ডকুমেন্টস উদ্ধারের দাবি করেছেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মো. আসাদুজ্জামান।

গতকাল দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমাদের সাঁড়াশি অভিযানের পর নেতৃত্ব পর্যায়ের প্রায় সবাইকে গ্রেফতারের পর আমরা ভেবেছিলাম নব্য জেএমবি নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। কিন্তু সংগঠনের পরবর্তী আমির মাহাদী হাসান জন বিদেশে বসে পুনরায় সংগঠিত করার চেষ্টা করছিলেন। ইতোমধ্যে সিটিটিসির তথ্যের ভিত্তিতে সংগঠনটির আমির মাহাদী হাসান জন তুরস্কে গ্রেফতার হয়েছেন। এরপর দেশে সংগঠনের নেতৃত্বে আসেন মো. ইউসুফ ওরফে ইউসুফ হুজুর। দীর্ঘ নজরদারির পর অবশেষে সহযোগী মো. জহিরুল ইসলাম ওরফে জহিরসহ ইউসুফকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, মাহাদীর অনুসারী কয়েকজনকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটা দেশে শনাক্ত করেছিলাম।

আমাদের ধারাবাহিক তৎপরতায় গত অক্টোবর-নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসজুড়ে অন্তত সাত-আটজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। মাহাদীর বাংলাদেশের নেটওয়ার্কের বিষয়ে আমরা আগে থেকেই অবগত ছিলাম, এর ভিত্তিতেই তাদের গ্রেফতার করা হয়। যাদের গ্রেফতার করা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাদের নেতা ইউসুফ। তিনি সংগঠনে ইউসুফ হুজুর নামেই পরিচিত। অবশেষে ইউসুফ ও তার সহযোগী জহিরুল ইসলাম জহিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাহাদীর তুরস্কে গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা নিজস্ব সূত্রে তাকে শনাক্ত করেছি, তার বাসার ঠিকানা দিয়েছি। যে দোকানে বসে বাংলাদেশে যোগাযোগ করতেন সেই ছবিও আমরা দিয়েছি। মাহাদী বর্তমানে জামিনে রয়েছেন, সেখানে সার্ভিলেন্সে রয়েছেন। ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারির জন্য আমরা আবেদন করেছি, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। সিটিটিসি প্রধান বলেন, ইউসুফ ও আবু বকরকে একসঙ্গে ২০১৭ সালে গ্রেফতার করেছিল সিটিটিসি। বিগত ১৯ সালে জামিনে বেরিয়ে ইউসুফ সৌদি আরবে চলে যান। মাহাদী তুরস্কে অবস্থান করছিলেন, আগে থেকেই তার সঙ্গে ইউসুফের যোগাযোগ ছিল। মাহাদী বিদেশে বসে সংগঠনকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছিলেন। অনলাইনে এ দেশের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন ও নতুন সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। তুরস্কে মাহাদীর গ্রেফতারের প্রক্রিয়াটি টের পেয়ে ২০২২-এর মাঝামাঝি ইউসুফ দেশে ফিরে সংগঠনের দায়িত্ব নেন। গত ১১ নভেম্বর সংগঠনের অপারেশনাল কমান্ডার আবু বকরকে গ্রেফতার করে সিটিটিসি। তারা পূজায় বড় হামলার পরিকল্পনা করছিল, সে সময় আবু বকরের ডিভাইস থেকে এ ধরনের বিস্তারিত তথ্য পাই। আমরা বিষয়টি অবগত করার ভিত্তিতে দুর্গাপূজায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। আবু বকরের ডিভাইস থেকে জানা যায়, ম পে প্রয়োজনে গেরুয়া গায়ে দিয়ে হিন্দু সেজে গিয়ে রেকি করতে বলা হয়। তাদের যে নতুন পরিকল্পনা ছিল তা আমাদের জন্য ছিল ভয়ের। তাদের ভাষায় ডিভাইস অর্থাৎ বিস্ফোরক ঢোলের ভেতরে করে ম পে নিয়ে যাওয়ার পরিরিকল্পনাও ছিল। তার ডিভাইসে হামলার দিনক্ষণও জানিয়ে দিয়েছিল, আমাদের ব্যবস্থার কারণে সফল হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। সিটিটিসি প্রধান আরও বলেন, মাহাদীর তুরস্কে গ্রেফতারের মাধ্যমে এ অধ্যায়ের সমাপ্তি ভেবেছিলাম। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউসুফ নিজেই স্বচ্ছল, তার নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা ছিল। ২০১৭ সালে গ্রেফতারের আগে শিক্ষকতা করতেন। মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে কিছু টাকা উপার্জন করেন। দেশে ফিরে বড় ব্যবসা শুরু করেন, তার লাভের টাকা পুরোটাই সংগঠনে বিনিয়োগ করতেন।

সর্বশেষ খবর