শিরোনাম
প্রকাশ : ৩১ মার্চ, ২০২০ ২০:২১

তেঁতুলিয়ায় বেকার ৫০ হাজার শ্রমিক

সরকার হায়দার, পঞ্চগড় :

তেঁতুলিয়ায় বেকার ৫০ হাজার শ্রমিক

মাত্র কয়েকদিন আগে দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধায় কাজ করে সংসার চালাতো প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক সেই বন্দর এখন ফাঁকা। তালা ঝুলছে প্রধান ফটকে। বন্দরের আশে পাশে প্রায় দেড়’শ পাথর ভাঙা মেশিনে কাজ করতো অন্তত ১০ হাজার শ্রমিক। তাও বন্ধ, মেশিনে জমছে ধুলোবালি। তেঁতুলিয়ার মহানন্দা নদীতে পাথর উত্তোলন করে পেট চালাতো প্রায় ৩০ হাজার পাথর শ্রমিক। সেই মহানন্দা বইছে আগের মতোই শুধু শ্রমিকরা নেই। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিজেদের বাঁচাতে এই উপজেলার সকল শ্রমিক এখন ঘরে বসেই সময় পার করছে। কিন্তু সংসার চলবে কিভাবে? তাই এক বুক দুঃশ্চিন্তা তাদের। দিনে এনে দিন খাওয়া এসব শ্রমিকের সংসার এখন মহাসংকটে। তারা জানান, সন্তানদের মুখের দিকে চেয়ে থাকা যায় না। সারা বছর কাজ করে যে টাকা জমিয়েছিলো তা অনেকের শেষ হয়ে গেছে আর অনেকের শেষের দিকে । আর দু’একদিন পর তারা না খাওয়া হয়ে যাবে। দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে ৮০’র দশকে চরম অভাব ছিলো। ৯০’দশক থেকে এই জেলার পরিবর্তন ঘটতে থাকে। বাংলাবান্ধা বন্দর চালু হওয়ার পর আমূল পরিবর্তন আসে সেখানে। পাথর সংশ্লিষ্ট নানা বাসস্থান ও কর্মসংস্থান গড়ে ওঠে সেখানে। ৯০ ভাগ মানুষের বেকারত্ব দূর হয়। তবে করোনার প্রাদুর্ভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে এই উপজেলা। অনেকে মনে করছেন কয়েকযুগ আগের সেই দিনগুলো কি আবার ফিরে আসছে? এমন নানা আশঙ্কা নিয়ে বাড়ির ভেতেরেই দিন কাটছে শ্রমিক পরিবারগুলোর। তারা চান সরকারি সহযোগিতা। বাংলাবান্ধা বন্দরের শ্রমিকনেতা আকতারুল ইসলাম জানান, ‘শ্রমিকদের পথে বসে যাওয়ার মতো অবস্থা। আমাদের পরিবার গভীর সংকটে আছে। অনেকে এক বেলা খেয়ে দিন পার করছে। বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কুদরত-ই-খুদা মিলন জানান, সরকারি সহযোগিতা পাচ্ছি। তবে তা অপ্রতুল। শ্রমিকদের তালিকা করা হচ্ছে । তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। সরকারি সহযোগিতার পাশাপাশি বিত্তবান এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি। তেঁতুলিয়া উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান ইউসুফ আলী জানান, প্রায় হাজার হাজার পাথর শ্রমিক এখন বেকার। কর্মহীন এই শ্রমিকরা পরিবার পরিজন নিয়ে নিদারুন কষ্টে দিন পার করছে। উপজেলা পরিষদ থেকে কিছু সংখ্যক শ্রমিককে সহযোগিতা করা হয়েছে। তবে জরুরী ভিত্তিতে আরও সরকারি-বেসরকারি বরাদ্দ প্রয়োজন। তিনি শ্রমিককদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর এবং তেঁতুলিয়ার পাথর শ্রমিকদের সহায়তা করার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদেরকে তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তালিকা পেলেই তারা সহায়তা পাবে।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য