Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৬ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ জুলাই, ২০১৯ ০০:১৮

বালু উত্তোলনে হুমকিতে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ

নওগাঁ প্রতিনিধি

বালু উত্তোলনে হুমকিতে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ
আত্রাই নদীর তীরঘেঁষে তোলা হচ্ছে বালু (বাঁয়ে) বালু তোলার ফলে বাঁধের সিসি ব্লকে ধস -বাংলাদেশ প্রতিদিন

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদীর মহিশবাথান ঘাটে ড্রেজার দিয়ে তীর ঘেঁষে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ। ফলে বর্ষা মৌসুমে বাঁধে ভাঙনের আশঙ্কা করছেন নদীতীরের বাসিন্দারা। বাঁধটি ধসে গেলে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ অন্তত ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হবে।

জানা যায়, মহিশবাথান ঘাটে একই স্থানে সারি বেঁধে ১০-১২টি খননযন্ত্র বসিয়ে এক বছরের বেশি সময় ধরে বালু উত্তোলন করছে একটি মহল। নদীর তলদেশে গর্ত করে বালু তোলায় সিসি ব্লকের নিচ থেকে মাটি সরে ব্লক ধসে পড়ছে। ফলে ফসলি জমিসহ বাঁধ হুমকির মুখে রয়েছে। প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালালে দু-একদিন বালু উত্তোলন বন্ধ থাকে। পরে আবার শুরু হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকি না থাকায় বালু উত্তোলনকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০-এর ধারা ৫-এর ১ উপধারা অনুযায়ী, পাম্প, ড্রেজিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ধারা ৪ এর (খ) অনুযায়ী সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা হলে অথবা আবাসিক এলাকা থেকে সর্বনি¤œ এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। কিন্তু আত্রাই নদী থেকে বালু তোলার ক্ষেত্রে আইন মানা হচ্ছে না। বালু তোলার কাজে নিয়োজিত কয়েক শ্রমিক জানান, প্রশাসনের লোক আসার আগেই এলাকায় খবর চলে আসে। এ কারণে আগেই ব্যবসায়ীরা মেশিন সরিয়ে নেয়। অভিযানের পর সুযোগ বুঝে আবার বালু তোলা শুরু করে। তারা পেটের দায়ে এখানে বালু তোলার কাজ করেন। আরেক শ্রমিক জানান, উপজেলার পুরো বালুমহালে আগে এক থেকে দেড় হাজার শ্রমিক বালু তোলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ড্রেজার দিয়ে বালু তোলায় অর্ধেক শ্রমিকই এখন বেকার। মহাদেবপুরের ইউএনও মোবারক হোসেন জানান, মহিশবাথান ঘাটে তিন দফায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। খননযন্ত্র ব্যবহার করা দ-নীয় অপরাধ। নীতিমালা লঙ্ঘন করে কেউ বালু তুললে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নওগাঁ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার জানান, বাঁধ হুমকির মুখে তা আপনার কাছে প্রথম শুনলাম। দ্রুত ওই এলাকা পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর