শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ মে, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ মে, ২০২০ ২৩:২০

‘লেট ব্লাইটে’ দিশাহারা বোরোচাষিরা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

‘লেট ব্লাইটে’ দিশাহারা বোরোচাষিরা
লেট ব্লাইট সংক্রমণে শুকিয়ে গেছে ধান

কৃষকের ঘাম ঝরানো বোরো ধানের খেতে ছত্রাকজনিত ‘লেট ব্লাইট’ হানা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে যারা ঋণ নিয়ে বোরো ধান চাষ করেছেন তারা পড়েছেন চরম বিপাকে। পাকা ধানে পোকার আক্রমণে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন এ জেলার কৃষকরা। লালমনিরহাট সদরের বড়বাড়ী কুলাঘাট, মহেন্দ্রনগর, আদিতমারীর ভাদাই, ভেলাবাড়ী, কালীগঞ্জের চর বৈরাতি, শিয়ালখোয়া, শ্রীখাতা দলোগ্রাম হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, বড়খাতাসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠে ব্রি-২৮ জাতের বোরো খেতে লেট ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। এতে করে ধানখেতগুলো সোনালি রং ধারণ করলেও তার শীষ মারা যাচ্ছে। ধানের শীষ চিটা হয়ে গেছে। যে সময় বোরো ধান কেটে ঘরে তোলার কথা ঠিক সেই মুহূর্তে ফসলি জমিতে দেখা দিয়েছে এ রোগ। কীটনাশক ছিটিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। যে কারণে হতাশ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। জেলার কৃষকরা ধানগাছে থোড় আসার পর পরই মনে করেছিলেন তা পেকে গেছে। পরে তারা বুঝতে পারেন অধিকাংশ খেতে লেট ব্লাস্টে আক্রান্ত হয়ে সোনালি রং ধারণ করেছে। এখন সহস্রাধিক চাষি পরিবার চরম হতাশায় ভুগছে। কালীগঞ্জে দলোগ্রামের আল-আমিন বলেন, করোনার কারণে জমিতে ঘন ঘন ওষুধ দিয়েছি তার পরও ধানের শীষের পরিবর্তন আসেনি। এবার করোনার কারণে কৃষি অফিসের  তেমন কেউ আসিনি। একই গ্রামের কৃষক কুরবান আলী বলেন, কয়েকদিনের মধ্যে ধান কেটে ঘরে তোলার প্রস্তুতি চলছে। আর এরই মধ্যে লেট ব্লাইট রোগে জমির ধান মরে যাচ্ছে।

মাঠজুড়ে সোনালি রঙের ধানে এ রোগ কৃষকদের হতাশ করে তুলছে আল্লাহ জানেন কী আছে কপালে।  পাশের গ্রামের শ্রীখাতার তোফাজ্জল হোসেন জানালেন, এই গ্রামের অনেকের খেতের ধানের পাতা নষ্ট হয়ে গেছে। এবার করোনা দুর্যোগের কারণে সময়মতো বোরো ধানের খেতের যতœ নেওয়া হয়নি এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় সার ও কীটনাশকও দেওয়া হয়নি। লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, জেলার পাঁচটি উপজেলায় এ মৌসুমে ৪৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজার মেট্রিক টন ধান। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শামীম আশরাফ জানান, কিছু কিছু এলাকায় বোরো খেতে লেট ব্লাইট রোগ দেখা দিয়েছে। যদিও এটার পরিমাণ খুবই কম। তবে এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কীটনাশক ছিটিয়ে কোনো ফল আসে না। খেতের কোনো অংশে লেট ব্লাইট দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ওই অংশের ধানের গাছ উপড়ে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর