শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০২

ভাঙা সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

খন্দকার একরামুল হক সম্রাট, কুড়িগ্রাম

ভাঙা সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার সড়কের ভাঙা সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে চার গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ। ফলে চরম দুর্ভোগে আছে চার গ্রামের বাসিন্দারা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্বে কোনো দফতর এই ব্রিজটি নির্মাণ করেছে কেউ বলতে পারেন না। এ কারণেই দীর্ঘ ৪৯ বছর ধরে সংস্কারের উদ্যোগ ছাড়াই ভেঙে পড়ে আছে এ সেতুটি। ফলে চার গ্রামের সাধারণ জনগণের ভোগান্তির সীমা নেই। কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে এসব মানুষের দুর্ভোগের সমাপ্তি ঘটছে না। যদিও স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে সেতুটি উপজেলা সদরের পাকা রাস্তায় হওয়ায় এখন প্রতিদিন সেতুর উপর দিয়ে ভারী যান চলাচল করায় সেতুটি আরও বেশি ভেঙে গেছে। এ সেতুটির অবস্থান ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার সড়কের পূর্ব বাগভান্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন। এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ওপর দিয়ে বড় ঝুঁকি নিয়েই চলছে বিভিন্ন যানবাহন ও এলাকার বসবাসরত মানুষজন। কোনো সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা কিংবা সংশ্লিষ্ট কেউ কোনো খোঁজ খবর নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ‘ক্ষতিগ্রস্ত সেতু, ভারী যানবাহন চলাচল নিষেধ’-এ কথা লিখে লাল ফিতা টানিয়ে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও সেতু বিভাগের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)। তবে এ সেতুটি কখন সংস্কার কিংবা নতুন করে নির্মাণ হবে তা এলাকাবাসীসহ কেউই বলতে পারছেন না। জানা গেছে, এলাকাবাসীর অনেকের এ ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর বিষয়ে অভিযোগ আছে। অনেকেই জানান, উপজেলা সদরের সঙ্গে সংযোগ রক্ষাকারী এ সেতুর ওপর দিয়ে উপজেলার মইদাম, পাথরডুবি ও বাগভান্ডার বিজিবি ক্যাম্প, ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার, খামার পত্র নবীশ, মানিক কাজির কিছু অংশ, ভোটহাট গ্রাম ও ১নং পাথরডুবী ইউনিয়নের ৪ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এসব বসবাসরত সাধারণ মানুষ। ফলে এ ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে চলাচল অবস্থায় যেকোনো ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনাও যেকোনো সময় ঘটতে পারে। বাগভান্ডার এলাকার কলেজ ছাত্র মঞ্জু মিয়া জানান, করোনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও আমাদের হাটে বাজারে যেতে হয় এই সেতু পার হয়ে। কিন্তু ভাঙা সেতুর ওপর দিয়ে ভয়ে ভয়ে আমরা যাতায়াত করি। কেউ যদি মেরামত করে দিত। এলাকার সাধারণ মানুষের অনেক উপকার হতো। এ ব্যাপারে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রকৌশলী এন্তাজুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার আগে ব্রিজ হওয়ায় কোনো দফতর তা সংস্কার কিংবা পুনঃনির্মাণ করবে তা কেউ জানে না। তাই এটি দীর্ঘদিন পড়ে আছে। তবে পাকা রাস্তার সঙ্গে হওয়ায় সেতুটি গত বন্যায় বেশি ভেঙে যায়। আমরা লাল ফিতা টানিয়ে মানুষকে সতর্ক করে দিচ্ছি। সম্প্রতি সেতুটির প্রাক্কলন তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর