শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:১৩

নাব্য সংকটে সিঅ্যান্ডবিঘাট নৌবন্দর

ভিড়তে পারছে না বড় নৌযান ॥ খরচ বেড়েছে লোড-আনলোডে

কামরুজ্জামান সোহেল, ফরিদপুর

নাব্য সংকটে সিঅ্যান্ডবিঘাট নৌবন্দর
পদ্মায় নাব্য সংকট থাকায় বন্দর থেকে দূরে ভেড়ানো হয়েছে পণ্যবাহী নৌযান

পদ্মায় নাব্য সংকটে প্রায় অচল ফরিদপুরের সিঅ্যান্ডবিঘাট নৌবন্দর। নদীতে জেগে ওঠা ছোট-বড় ডুবোচরের কারণে এ নৌবন্দরে ভিড়তে পারছে না বড় আকারের পণ্যবাহী জাহাজ, কার্গো। সিঅ্যান্ডবিঘাট থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে চরভদ্রাসন উপজেলার এমপিডাঙ্গী, জাকেরের সূরা এলাকায় জাহাজগুলো থামতে বাধ্য হচ্ছে। পণ্য সেখান থেকে ছোট কার্গো ও ট্রলারে করে সিঅ্যান্ডবিঘাট বন্দরে আনা হচ্ছে। এতে লোড-আনলোডে খরচ পড়ছে বেশি। পণ্যবাহী নৌযানের মালিক ও পণ্য আমদানিকারকরা পড়েছেন বিপাকে। এ ছাড়া বন্দর এলাকার প্রায় আট হাজার শ্রমিকের কাজের পরিধি কমেছে। দিনের পর দিন অরক্ষিত স্থানে থাকা জাহাজ ও কার্গো পড়ছে ডাকাতের কবলে। সরেজমিন দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পণ্যবাহী নৌযান অপেক্ষা করছে ফরিদপুরের সিঅ্যান্ডবিঘাট নৌবন্দরে ভেড়ার জন্য। পদ্মা নদীতে পর্যাপ্ত নাব্য না থাকায় সেগুলো বন্দরে ভিড়তে পারছে না। বন্দর থেকে চার কিলোমিটার দূরে নোঙর করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে সিমেন্ট নিয়ে এ ঘাটে এসেছেন শেখ ফরিদ-৩ নামে কার্গোর চালক আলাউদ্দিন শেখ। তিনি জানান, বন্দর পর্যন্ত পৌঁছাতে হলে নদীতে যে পরিমাণ পানি থাকা প্রয়োজন তা এখন নেই। ডুবোচরে কয়েকবার আটকা পড়েছি। ফলে তেল খরচ বেশি লেগেছে। যেভাবে পানি কমছে তাতে ফেরত যেতে পারব কিনা জানি না। আরেক নৌযানের চালক শাহজাহান জানান, কমপক্ষে ১০ হাত গভীর পানি থাকা প্রয়োজন ছিল। সেখানে কোথাও কোথাও পানি আছে মাত্র দুই-তিন হাত। নব্য সংকটের কারণে বন্দর থেকে অনেক দূরে অরক্ষিত স্থানে পণ্যসহ কার্গো ভেড়াতে হচ্ছে। এতে পণ্যের পাশাপাশি স্টাফরাও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। এখন থেকে পণ্য খালাসে নানা হয়রানি ছাড়াও পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। বন্দরের নৌযান শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি হেলালউদ্দিন বলেন, দক্ষিণবঙ্গসহ বৃহত্তর ফরিদপুরের পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ নৌবন্দর। বছরের প্রায় পাঁচ মাস এখানে নদীতে পানি কম থাকে। এ কারণে তখন বন্দরে নৌযান ভেড়ানো ও পণ্য খালাসে জটিলতা সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি পদ্মায় জেগে উঠেছে অসংখ্য ডুবোচর। বন্দরমুখী পণ্যবাহী বেশ কিছু জাহাজ ওই চরে আটকা পড়েছে। নৌবন্দর-সংলগ্ন ডিক্রিরচর ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান বলেন, নাব্য না থাকায় বন্দরটি অচল হতে বসেছে। এ বন্দর ঘিরে হাজার হাজার শ্রমিক-ব্যবসায়ীর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছিল। বন্দরটি অচল হলে শ্রমিকরা কাজ হারাবে। দ্রুতই ড্রেজার দিয়ে বালু কাটা হলে ঘাটটি সচল থাকবে বলেও জানান তিনি। বিআইডাব্লিউটিএর (আরিচা ঘাট) উপ-পরিচালক মাসুদ পারভেজ বলেন, নাব্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। স্থানীয়ভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু কেটে ক্যানেল তৈরির বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা হচ্ছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর