শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ মার্চ, ২০২১ ২২:৫১

হাসপাতাল নেই বেনাপোলে

বকুল মাহবুব, বেনাপোল

হাসপাতাল নেই বেনাপোলে
Google News

দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলে নেই কোনো হাসপাতাল। আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট হিসেবে বেনাপোলের গুরুত্ব দেশের গ-ি ছাড়িয়েছে অনেক আগেই। বেনাপোল বন্দর আর বাজার ঘিরে বসবাস প্রায় ৩ লাখ বাসিন্দার। সামান্য সর্দিজ্বর থেকে হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য ছুটতে হয় ৩৫ কিলোমিটার দূরের জেলা সদর যশোরে। ১৪ কিলোমিটার দূরে নাভারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকলেও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় মানুষ মুখ ফিরিয়ে রেখেছে সেখান থেকে। ৩ লাখ লোকের চিকিৎসার জন্য এখানে আছেন মাত্র একজন এমবিবিএস ডাক্তার। তাও আবার বেসরকারি। প্যারামেডিক চার-পাঁচ জন গ্রাম্য ডাক্তারের দখলে বেনাপোলের স্বাস্থ্য খাত। ৫০ থেকে ১০০ টাকার প্রেসক্রিপশন নিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে ভুক্তভোগীরা। বেনাপোলের তালশারিতে ১০ শয্যার একটি মা ও শিশু হাসপাতালের নির্মাণকাজ তিন বছর আগে শেষ হলেও উদ্বোধন হয়নি। এটি চালু হলে মা ও শিশুদের আপৎকালীন চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন বেনাপোল উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল সহকারী আবদুর রাজ্জাক। এ স্থল বন্দর থেকে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত কাস্টমস এবং বন্দর, থানা ও ইমিগ্রেশন পুলিশ, বিজিবি, ব্যাংক-বীমা, স্কুল-কলেজ, মৎস্য আড়ত, কোয়ারেন্টাইন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ট্রান্সপোর্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ৫ হাজারের বেশি মানুষসহ প্রায় ৩ লাখ লোকের বসবাস বেনাপোল বন্দর ঘিরে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন ভারত যাতায়াতকারী পাসপোর্ট যাত্রীর সংখ্যা ৬-৭ হাজার। এতসব মানুষের চিকিৎসার জন্য নেই কোনো ডাক্তার, ক্লিনিক বা হাসপাতাল। ভারতে চিকিৎসার জন্য বেনাপোলে সাময়িক অবস্থান করা যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাদের দেখভালের জন্য কোনো ডাক্তার নেই। বন্দর থেকে পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রম অত্যন্ত ঝুঁকিপুর্ণ হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। মাত্রাতিরিক্ত যানবাহন চলার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। গত ছয় মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু এবং ২৯ জনের মারাত্মক জখম হওয়ার খবর রেকর্ড আছে বেনাপোল পৌরসভায়। দেশের বৃহত্তম এ বন্দর এলাকায় একটি হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে স্বাধীনতার পর অনেক মন্ত্রী/এমপি কথা দিলেও কেউ কথা রাখেননি।

বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন পৌরসভার উদ্যোগে গরিব অসহায় রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা চালালেও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তার পরও অসহায় মানুষ তাকিয়ে থাকে পৌরসভার দিকে আর আশা নিয়ে বসে থাকে কবে হবে হাসপাতাল?