শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:১২

মুড়ির গ্রামে ‘রমজান’ ব্যস্ততা

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

মুড়ির গ্রামে ‘রমজান’ ব্যস্ততা
Google News

রমজান মাসে রোজাদারদের বিভিন্ন ইফতার সামগ্রীর মধ্যে অন্যতম মুড়ি। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে এখন চলছে রমজান মাসের জন্য মুড়ি ভাজার ব্যস্ততা। এই গ্রামে শত বছর ধরে মুড়ি ভাজা হয়। হাতে ভাজা মুড়ির জন্য এই গ্রাম প্রসিদ্ধ। চৈত্রের খরতাপ। তার মধ্যে দুপুরে কাঠের চুলা জ্বালিয়ে মুড়ি ভাজছেন নারীরা। এরপর মুড়ি চালুন দিয়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে। পুরুষরা মুড়ি বস্তায় ভরে মুখ সেলাই করছেন। কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন লক্ষ্মীপুর গ্রামের এক বাড়িতে দেখা যায় এ দৃশ্য। একইভাবে ব্যস্ত সময় পার করছে গ্রামের ৪০ পরিবার। এসব পরিবারের ছেলে-বুড়ো সবাই ব্যস্ত। গ্রামের পাশে পিকআপ ভ্যানে ও ট্রাকে তুলে দেওয়া হচ্ছে মুড়ির বস্তা। সেগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কুমিল্লা শহর, ফেনী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেটে। লক্ষ্মণ পাল বলেন, সারা বছর মুড়ি ভাজেন। হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা রয়েছে। এ মুড়ি খেতেও সুস্বাদু। দাম একটু বেশি হলেও সচেতন মানুষ হাতে ভাজা মুড়িই খোঁজেন। রোজার সময় মুড়ির চাহিদা বেশি। তাই ব্যস্ততাও বেশি। এখন গিগজ ধানের মুড়ি ভাজছেন। আরও পরে ভাজবেন টাবি ধানের মুড়ি। আরেক মুড়ি উৎপাদনকারী দুর্গাচরণ পাল বলেন, গ্রামের ৪০ পরিবার প্রতিদিন প্রায় ৮০ বস্তা মুড়ি ভাজেন।

প্রতি বস্তায় ৪৫ কেজি মুড়ি থাকে। তারা পাইকারি প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি করেন। খুচরা বাজারে তা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এবার চালের দাম বেশি হওয়ায় তেমন লাভ পাবেন না। আশা করছেন, টাবি ধানের মুড়িতে লাভ করতে পারবেন। চাল ও জ্বালানির দামে তারা ছাড় পেলে ভালো আয় করতে পারবেন বলেও জানান। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন (বিসিক) কুমিল্লার ডিজিএম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা ওই গ্রামের মুড়ি উৎপাদনকারীদের বিষয়ে খোঁজ নেব। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আরও দক্ষ করা যায় কিনা সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর