শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ মে, ২০২১ ২৩:২৪

সারি সারি আলমারি ভরা বই, নেই পাঠক

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

সারি সারি আলমারি ভরা বই, নেই পাঠক
Google News

জয়পুরহাট শহরের প্রাণকেন্দ্র শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানের পশ্চিম পাশে জয়পুরহাট লাইব্রেরির অবস্থান। লাইব্রেরি ভবনের আলমারিতে থরে থরে সাজানো বিভিন্ন বই। পড়ার সব সুবিধা থাকলেও নেই শুধু পাঠক। এক সময় শিক্ষার্থীদের পদচারণায় লাইব্রেরি ছিল মুখরিত। আলমারি থেকে বই বের করে পড়ার টেবিলে বসে বই পড়তো শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। এখন আর কেউ আসে না বই পড়তে। বিকালে দু-চারজন আসে পত্রিকা পড়তে। পাঠক শূন্যতার কথা জানালেন লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক। ১৯৪৭ সালের মার্চ মাসে জয়পুরহাট লাইব্রেরি অ্যান্ড ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। তার আগে শহরে মুসলিম লাইব্রেরি নামে একটি লাইব্রেরি ছিল। সে লাইব্রেরি এক সময় আগুনে পুড়ে যায়। বৃটিশ আমলে পাঁচবিবি, জয়পুরহাট ও ক্ষেতলাল থানা নিয়ে গঠিত হয় সিও ওয়েস্ট। সিও ওয়েস্ট এর কার্যালয় ছিল বর্তমান লাইব্রেরি সংলগ্ন লালদালানে। লালদালান এখনো কালের সাক্ষ্যবহন করে। সেই সময় সিও ছিলেন কিউ কিউ জহুর। প্রতিষ্ঠাকালীন জয়পুরহাট লাইব্রেরি অ্যান্ড ক্লাবের সভাপতি ছিলেন সিও। সাধারণ সম্পাদক ছিলেন জয়পুরহাট শহরের ডা. নছির উদ্দীন আহম্মেদ। শহরের উৎসাহী ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে জয়পুরহাট লাইব্রেরি অ্যান্ড ক্লাব পরিচালনা কমিটি গঠন হয়। সূধীজনদের সহযোগিতায় বই সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। এ ভাবেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠে জয়পুরহাট লাইব্রেরি অ্যান্ড ক্লাব। বর্তমানে এই লাইব্রেরিতে বই রয়েছে ১৪ হাজারের অধিক। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্য, কবিতা, ইতিহাস, বিজ্ঞানসহ আছে বিভিন্ন লেখকের গবেষণামূলক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বই।

আছে আইন বিষয়ের বইও। বই থাকলেও নেই পাঠক। শিক্ষকরা বলছেন, পারিবারিকভাবে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে ছেলেমেয়েদের। শিক্ষার্থীদের মা-বাবা ছেলেমেয়েকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দিয়ে কোচিংমুখী করেছে, জিপিএ-৫ পাওয়ার আশায়। ফলে ক্লাসের বাইরের বইমুখী হচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তুলসী দাস মোহন্ত বলেন, ক্লাসের পাঠ্য সূচির বাইরে জ্ঞানলাভের জন্য শিক্ষার্থীদের যে বই পড়া কত জরুরি তা আমাদের অভিভাবকরা বুঝতে চান না। জ্ঞান লাভ এবং ভালো মানুষ গড়তে বইয়ের বিকল্প নেই। জয়পুরহাট লাইব্রেরি অ্যান্ড ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান কমিটির সহসভাপতি আইনজীবী মোমিন আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, পারিবারিক বলয় থেকে ছোটদের হাতে রুচিসম্মত বই তুলে দিতে হবে। এতে তারা ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। জয়পুরহাট লাইব্রেরি অ্যান্ড ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাজা চৌধুরী বলেন, বই পড়ার পাঠক এখন আর নেই। এক সময় প্রচুর পাঠক লাইব্রেরি থেকে বই নিয়ে বাড়িতে পড়ত। দীর্ঘদিন থেকে পাঠক শূন্যতা চলছে লাইব্রেরিতে।

এই বিভাগের আরও খবর