শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৯ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ মে, ২০২১ ২৩:৩২

পালিয়ে বেড়াচ্ছে চর চারতলাবাসী

মোশাররফ হোসেন বেলাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

পালিয়ে বেড়াচ্ছে চর চারতলাবাসী
Google News

সমানে ভাঙচুর, লুটপাট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের চর চারতলা গ্রামে। আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এ গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ। অভিযোগ আছে, একের পর এক হামলা-ভাঙচুর হলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। জানা যায়, চর চারতলা গ্রামের লতিফবাড়ি ও মুন্সিবাড়ি গোষ্ঠীর মধ্যে ঝগড়া হয় গত ২২ জানুয়ারি রাতে। তখন টেঁটার আঘাতে খুন হন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সির ভাই জামাল। হত্যার ঘটনার পরদিন থেকে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন পুরো গ্রামে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। লুটপাট করা হয় একাধিক বাড়ির মালামাল। খুলে নেওয়া হচ্ছে টিনের চালা। পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ঘরবাড়ি। সরেজমিন চর চারতলা গ্রামে গিয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়। বৃদ্ধা হালেমা বলেন, তার স্বামী নেই। ঘরে তিন প্রতিবন্ধী সন্তান। কোনো কারণ ছাড়াই তার ঘরে লুটপাট করা হয়েছে। স্থানীয় খন্দকারবাড়ির গৃহবধূ হালিমা ও ফরিদা বলেন, তাদের ৪০ বছরের সাজানো সংসারে অবশিষ্ট কিছুই নেই। লুটপাটে ঘর এখন শূন্য। আলমারি ভেঙে স্বর্ণালঙ্কারসহ সব নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। লতিফ বাড়ির সেলিম পারভেজের ডুপ্লেক্স বাসভবন দেখলে যে কেউ আঁতকে উঠবেন। ইট ছাড়া সেখানে কিছুই নেই। দরজা-জানালা খুলে নিয়ে গেছে। লুট হয়েছে গ্রামের মসজিদের ফ্যানও। গত চার মাস ধরে ঘরবাড়িতে লুটপাট অব্যাহত রয়েছে। মহিলাদেরও নির্যাতন করা হচ্ছে। হুমকি দেওয়া হচ্ছে বাড়ি ছাড়ার। ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত তিন শতাধিক ঘর-বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জামাল মুন্সি হত্যা ঘটনায় ২৭ জনের নামে মামলা হয়। অথচ ভয় আর আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন শত শত লোক। জানা গেছে, অত্যাচারের শিকার পরিবারের সদস্যরা থানায় মামলা দিতে গেলেও ওসি ফিরিয়ে দিয়েছেন। পরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে আটটি মামলা করা হয়েছে। মামলাগুলো পিবিআই ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে আদালত। সব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সি বলেন, লুটপাটের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, হত্যা ও বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট দুটিই অপরাধ। এর সঙ্গে কোনো জনপ্রতিনিধির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে ছাড় দেওয়া হবে।