শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১২ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ জুন, ২০২১ ০০:১২

আমে দেশসেরা নওগাঁ

বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ

আমে দেশসেরা নওগাঁ
Google News

উত্তরের খাদ্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত বরেন্দ্র সীমান্তবর্তী জেলা নওগাঁ। মূলত ধান ও চাল উৎপাদনের জন্য এ জেলা বিখ্যাত হলেও গত কয়েক বছর ধরে সুমিষ্ট আম উৎপাদনেও দেশসেরার তালিকায় নওগাঁ জেলা। ইতিমধ্যেই বাজারে এসেছে নওগাঁর সুমিষ্ট আম। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নওগাঁর সুমিষ্ট আমকে রাজশাহী কিংবা চাঁপাইয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমনকি বিদেশেও চালান করে প্রতারণা করে আসছে। জেলাতে যেসব শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে তার অধিকাংশই কৃষিভিত্তিক। গত ১০ বছরে ধানের পাশাপাশি আম চাষাবাদের ফলে পাল্টে গেছে এ জেলার চিত্র। ভারতীয় সীমান্তবর্তী পোরশা, সাপাহার, নিয়ামতপুর, পত্নীতলা, ধামইরহাট উপজেলাতে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে শত শত বিঘা জমিতে আমের বাগান। সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে আমের চাষ হয়েছে ২৫ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে। জেলায় আ¤্রপলি ৭৬ শতাংশ, বারি-৪ আম ৬ শতাংশ, আর্শ্বিনা ৭ শতাংশ, ফজলি ৩ শতাংশ, ল্যাংড়া ৩ শতাংশ, ক্ষীরশাপাত ২ শতাংশ, গৌড়মতি ১ শতাংশ, কাটিমন ১ শতাংশ ও অন্যান্য জাতের ১ শতাংশ জমিতে আমের বাগান গড়ে উঠেছে। অন্যান্য আবাদের চেয়ে আম চাষ বেশি লাভজনক হওয়ায় ২০০৯ সালের পর থেকে আস্তে আস্তে ধান চাষের পাশাপাশি আম বাগান গড়ে উঠতে শুরু করে। এক সময় নওগাঁর মানুষরা আম বলতে পার্শ্ববর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম খুঁজতেন। কয়েক বছরের ব্যবধানে আম কিনতে দেশ-বিদেশের মানুষ আসে এই এলাকায়। সাপাহারের আম চাষি নওশাদ আলী জানান, দুই বছর বয়সের আম বাগান থেকে চার লাখ টাকার আম বিক্রি করেছি। এবার নতুন করে আবার ১৫ বিঘা জমি লিজ নিয়ে আম বাগান তৈরি করেছি। আল্লাহর রহমতে এবার ফল ভালো ধরেছে। নওগাঁয় প্রায় ছোট-বড় ২৫০টি আমের আড়ৎ রয়েছে। গত বছর এই আড়ৎগুলোর অধীনে কাজ করছেন প্রায় ১০ হাজার মৌসুমি শ্রমিক। নওগাঁর অর্থনীতির চাকা বরেন্দ্র অঞ্চলের আমে ঘুরছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে প্রতিদিন শত শত ট্রাক আম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। গত মৌসুমে নওগাঁর আমচাষিরা প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার আম বিক্রি করেছেন। এতে চাষিদের ঘরে এসেছে সচ্ছলতা, তেমনি মৌসুমজুড়ে হয়েছে হাজারো মানুষের কাজের সুযোগ। জেলার সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদন হয় সীমান্তবর্তী সাপাহার উপজেলায় ১ লাখ ১৯ হাজার ১৬০ টন, পোরশায় ১ লাখ ১৫ হাজার ১৯৯ টন, পত্নীতলায় ১ লাখ ১১ হাজার টন। চলতি মৌসুমে ২৫০০ কোটি টাকার আম বিক্রি হবে। সাপাহার আম আড়ৎ মালিক সমিতির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা জানান, গত ১০ বছরে সাপাহারে আম বাজার ঘিরে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আম কিনতে আসেন। তাদের পছন্দমতো আড়তে অবস্থান করে ধিরস্থিরভাবে সরাসরি কৃষকের বাগান থেকে আম কিনতে পারেন। এমন সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থা বাংলাদেশে আর কোনো জেলাতে নেই।   জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ছামসুল ওদাদুদ বলেন, নওগাঁ জেলা বরেন্দ্র অঞ্চলভুক্ত এলাকা। জেলার পোরশা, সাপাহার, ও পত্নীতলা উপজেলায় বেশি আমবাগান গড়ে উঠেছে। মাটির বৈশিষ্ট্যের কারণেই আমের প্রচুর ফলন হয়। এখন ফলনের পরিমাণে জেলার আম বাগানগুলোতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চেয়েও বেশি হচ্ছে। জেলায় নতুন নতুন বাগান হচ্ছে এবং ফলনও বাড়ছে। গত বছর জেলায় আম উৎপাদন হয়েছিল ২লাখ ৭২ হাজার মেট্টিক টন তার তুলনায় চলতি বছর ৩ লাখ ২০ হাজার মেট্টিক টন আম বাজারজাতের আশা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ বলেন, জেলার প্রধান আম হচ্ছে সুমিষ্ট আম্রপলি।