শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

খেতের পোকা দমনে আলোক ফাঁদ

দিনাজপুর প্রতিনিধি

খেতের পোকা দমনে আলোক ফাঁদ

দিনাজপুরের বিভিন্ন উপজেলায় ফসলের খেতে পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনে বসানো হয়েছে ‘আলোক ফাঁদ’। এতে কমেছে অপ্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার। ফলে খরচ কমছে কৃষকের। ফসল থাকছে অনেকটা বিষমুক্ত। গত বৃহস্পতিবার কাহারোল উপজেলার ১৮টি ব্লকের খেতে শুরু হয়েছে আলোক ফাঁদ স্থাপন কার্যক্রম। ‘আলোক ফাঁদ’ ব্যবহারে চাষাবাদে আর্থিক সাশ্রয়ের পাশাপাশি ভালো ফলন হওয়ায় লাভবান হচ্ছেন কৃষক। তাদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এ পদ্ধতি। আমন ধানসহ ফসল চা?ষে স্বল্প খরচে পরিবেশবান্ধব ‘আলোক ফাঁদ’ ব্যবহারে ব্যাপক সফলতা এনে দেবে। কৃষি বিভাগ জানায়, আমন ধানের খেতের আইলে কোথাও পানিভর্তি পাত্রে, কোথাও কাগজের ওপড় আলো জ্বালিয়ে ক্ষতিকর বিভিন্ন পোকা ধরছেন। কৃষকরা নিজে জমিতে এ পোকার উপস্থিতি দেখে তা দমনে কোন ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে- তা সহজেই নিরূপণ করতে পারছেন। এতে কৃষকদের খরচ অনেকটা কমে আসছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে ধানের উৎপাদন। ধান খেতে আলোক ফাঁদে উপকারী পোকার মধ্যে ড্যামসেল ফ্লাই ও মাকড়সা এবং ক্ষতিকর পোকার মধ্যে মাজরা পোকা ও সবুজ পাতা ফড়িংয়ের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এ পদ্ধতির মাধ্যমে ধানের উপকারী পোকা সংরক্ষণ এবং ক্ষতিকর পোকা দমনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক দীনেশ চন্দ্র রায় বলেন, উচ্চমূল্যের কীটনাশক ব্যবহার করে ফসলের ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমনে প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে নামমাত্র খরচে ‘আলোক ফাঁদ’ ব্যবহারে সুফল পাচ্ছেন চাষিরা। কাহারোল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মো. সাদেক বলেন, ধান খেতে ব্লাস্ট ও কারেন্ট পোকা প্রতিরোধের জন্য কৃষকদের মধ্যে লিফলেট, প্রেসক্রিপশন বিতরণ করা হচ্ছে। দলীয় আলোচনা সভার মাধ্যমে কৃষকদের আলোক ফাঁদের উপকারিতা সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে। আলোক ফাঁদ প্রযুক্তি পরিবেশবান্ধব এবং অর্থসাশ্রয়ী। এতে চাষিরা নিজেরাই ক্ষতিকর ও উপকারী পোকা শনাক্ত করে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হবেন বলেও আশা করেন তিনি।