মেহেরপুর জেলার ৭১৬ বর্গকিলোমিটার এলাকায় প্রায় ৭ লাখ মানুষের চলাচলের বড় অংশ এখন নির্ভর করছে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার অবৈধ যানবাহনের ওপর। এক সময় রিকশা, ভ্যান ও গরুর গাড়ির দখলে থাকা গ্রামীণ সড়ক এখন দখল করেছে ব্যাটারিচালিত ও শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যান। দ্রুত চলাচল ও কম ভাড়ার কারণে জনপ্রিয় হলেও এসব যান এখন জননিরাপত্তার বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ। নছিমন, করিমন, আলগামন, আলমসাধু, অটোরিকশা, লাটা হাম্বার, ভটভটি-বাহারি নামে পরিচিত এসব অবৈধ যান এখন মেহেরপুরের সড়কের অঘোষিত নিয়ন্ত্রক। শহর থেকে গ্রাম, অলিগলি থেকে আঞ্চলিক সড়ক-সবখানেই বেপরোয়া গতিতে ছুটছে এসব যান। অধিকাংশই তৈরি হয়েছে শ্যালো ইঞ্জিন ও ব্যাটারি দিয়ে। নেই মানসম্মত ব্রেক, কার্যকর হেডলাইট কিংবা নিরাপদ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা। অথচ দিনের পর দিন অবাধে চললেও এসব যান নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। ফলে পৌর এলাকার ব্যবসায়ী বেলাল ওসমান বলেন, ‘অদক্ষ চালক, এমনকি শিশু-কিশোররাও এসব যান চালাচ্ছে। কোনো নিয়মকানুন নেই। প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। মানুষ মারা যাচ্ছে, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। বৈধ যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা ও মামলা দিতে নিয়মিত অভিযান চললেও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো অবৈধ নছিমন-করিমন বা ভটভটির বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা দেখা যায় না। শিক্ষক সাজেদুর ইসলাম বলেন, ‘রাস্তায় বের হলেই ভয় লাগে। এসব যানের কোনো বৈধতা নেই, চালকদেরও লাইসেন্স নেই। কখন যে এসে চাপা দেয়, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়।’ মেহেরপুর বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির লাইন সেক্রেটারি মিন্টু মিয়া বলেন, ‘গত ৫ আগস্টের পর থেকে মহাসড়কেও অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। বাসে যাত্রী নেই। পরিবহন ব্যবসা লোকসানে চলছে।’
ছহিউদ্দিন ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ফররুখ আহমেদ বলেন, ‘সরকারকে কর-ট্যাক্স দিয়ে বৈধ মোটরসাইকেল চালাই। কিন্তু রাস্তায় বের হলেই অবৈধ যানের ভয়ে থাকতে হয়। দুর্ঘটনা ঘটালেও চালকেরাই উল্টো তর্কে জড়িয়ে পড়ে।’ তবে চালকদের ভাষ্য ভিন্ন। বন্দর গ্রামের অটোচালক ছিতাব আলী বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। পেটের দায়ে গাড়ি চালাই। আগে বিদেশ থেকে এসব অটো আমদানি বন্ধ করা হোক, তাহলে এমনিতেই কমে যাবে।’ নছিমনচালক আনিছুর রহমান বলেন, ‘প্রত্যন্ত এলাকায় রোগী পরিবহন, মানুষের যাতায়াত-সবকিছুতেই এসব যান দরকার। এমনকি রাতের টহলেও পুলিশ অনেক সময় এসব যান ব্যবহার করে।’ এ বিষয়ে জেলার ট্রাফিত বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ‘প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ও রোগী পরিবহনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মানবিক কারণে অনেক সময় ছাড় দেওয়া হয়। তবে মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবৈধ যান চলাচল বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’