Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ২১:৫১
আপডেট : ১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ২২:০৪

বিয়ের ১১ দিনের মাথায়

টাঙ্গাইলে নববধূকে তালাক দিয়ে শাশুড়িকে বিয়ে করলেন জামাই

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইলে নববধূকে তালাক দিয়ে শাশুড়িকে বিয়ে করলেন জামাই
প্রতীকী ছবি

মাত্র এগারো দিন আগে ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল নূরন্নাহার খাতুনের (১৯)। শ্বশুর বাড়িতে এক সপ্তাহ অবস্থানের পর বাবার বাড়ি ফিরে যায় গত শুক্রবার (১১ অক্টোবার)। পরদিন শনিবার বিকেলেই তার ঘর ভাঙে। বর মোনছের আলী (৩২) শ্বশুর বাড়ি গিয়ে নববধূ নূরন্নাহারকে তালাক দিয়ে শাশুড়ি মাজেদা বেগমকে (৪০) বিয়ে করে বীরদর্পে চলে যায়। 

দু'দিন আগের শাশুড়ি মাজেদা এখন মোনছের আলীর ঘরণী হয়ে দিব্যি সংসার করছেন। এমন ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার কড়িয়াটাআটা গ্রামে।

জানা যায়, ধনবাড়ী উপজেলার হাজরাবাড়ী পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে মোনছের আলী গত ২ অক্টোবর গোপালপুর উপজেলার কড়িয়াটা গ্রামের নূর ইসলামের মেয়ে নূরন্নাহার খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পরদিন শাশুড়ি মাজেদা বেগম মেয়ের বাড়ি বেড়াতে যান। মেয়ের সাথে এক সপ্তাহ সেখানে অবস্থানের পর গত শুক্রবার বর-কনেসহ নিজ বাড়ি ফেরেন। 

শনিবার সকালে নূরন্নাহার বরের সাথে সংসার করবেন না বলে বায়না ধরেন। শুরু হয় পারিবারিক কলহ। শাশুড়ি মাজেদা বেগম তখন নূরন্নাহার সংসার না করলে তিনি নতুন জামাতার সংসার করবেন বলে জানান। এমতাবস্থায় অসহায় শ্বশুর নূর ইসলাম গ্রাম্য সালিশ ডাকেন। 

হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের তালুকদার, ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ সালিশি বৈঠকে বসেন।সামাজিক বিচারে মাজেদা বেগম ও মোনছের আলীকে মারধর করা হয়। এরপর পুরো পরিবারের সম্মতিতে নূর ইসলাম প্রথমে স্ত্রী মাজেদা বেগমকে তালাক দেন। এবং বর মোনছের আলী নবপরিণীতা নূরন্নাহারকেও তালাক দেন। এরপর একই অনুষ্ঠানে সবার উপস্থিতিতে মোনছের আলীর সাথে মাজেদা বেগমের এক লক্ষ টাকা কাবিনে বিয়ে হয়। 

হাদিরা ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী জিনাত এসব কাজে যুক্ত ছিলেন। তিনি জানান, ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার, গ্রাম্য মাতব্বর এবং ওই পরিবারের সকল সদস্যের সম্মতিতে দু'টি তালাক এবং একটি বিবাহের কাজ একই অনুষ্ঠানে সম্পাদন করা হয়।

ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলাম জানান, পুরো কাজটি হয়েছে ওই পরিবারের সম্মতিতে। তবে শাশুড়ি বিয়ে করার ঘটনায় আপত্তি থাকায় গ্রামবাসীদের উপস্থিতিতে মোনছের ও মাজেদাকে শারীরিক শাস্তি দেয়া হয়।

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের তালুকদার জানান, শাশুড়িকে বিয়ের খবরে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বাড়ি ঘেরাও করে তাদের মারপিট শুরু করেন। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। এরপর পরিবারের সকলের সম্মতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তাদের বিয়ের সম্মতি দেন তিনি। 

এদিকে শাশুড়ি বিয়ের খবরে দু'দিন ধরেই গ্রামবাসী ভিড় করছে মোনছের আলীর বাড়িতে।

বিডি প্রতিদিন/মজুমদার


আপনার মন্তব্য