শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:৩৫

‘ছায়া পরীক্ষা’ দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে কেন্দ্রের বাইরে থাকা সেই মাহিবুল

অনলাইন ডেস্ক

‘ছায়া পরীক্ষা’ দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে কেন্দ্রের বাইরে থাকা সেই মাহিবুল
পরীক্ষা কেন্দ্রের গেটে মাহিবুল

অবশেষে ‘ছায়া পরীক্ষা’ দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে পরীক্ষা দেয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় আড়াই ঘন্টা কেন্দ্রের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা সেই মাহিবুল। জানা গেছে, নাটোরের বাগাতিপাড়ায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা দেওয়ার বাসনায় রবি ও সোমবার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে প্রতিবন্ধী মাহিবুল। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রশাসন এ ছায়া পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সমাজসেবা অফিসার রেজাউল করিম। তিনি‌ সাংবাদিকদের জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরটি নজরে এলে সোমবার সকালে আবারও মাহিবুলকে গেটে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে ইউএনও প্রিয়াংকা দেবী পালের সঙ্গে আলোচনা করে মাহিবুলকে ছায়া পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। আইনি জটিলতার কারণে এ পরীক্ষার কোনো মূল্যায়ন করা হবে না বা ফলাফলও দেয়া হবে না। এছাড়া কোনো নিয়মিত পরীক্ষার কেন্দ্রে নয়, সে পরীক্ষা দিবে পার্শ্ববর্তী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মমতাজ উদ্দিন স্মৃতি বাক, শ্রবণ ও অটিস্টিক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে। মঙ্গলবার থেকে এ পরীক্ষার সুযোগ পাবে সে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার নওশেরা মহল্লার কামরুল আহসান খানের একমাত্র সন্তান মাহিবুল। অন্য শিশুদের মতো তাদের সন্তানটি স্বাভাবিক না হলেও মাহিবুল পড়াশোনা করতে চায়। ছেলের এই আগ্রহ দেখে অন্য শিশুর মতো মাহিবুলকেও স্কুলে ভর্তি করেন তারা। অন্য বন্ধুদের মতো সেও নিয়মিত লেখাপড়া ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে থাকে। গত বৃহস্পতিবার উপজেলার ড. এমদাদ খান ও ছেতেরা খান কৃষি ও কারিগরি অর্কা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিইসি পরীক্ষার্থীদের সাথে মাহিবুলও বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। তবে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য যে রেজিস্ট্রেশন করতে হয় সেটা করেনি মাহিবুল। 

শিশুটির বাবা জানান, মাহিবুলের জোরাজুরিতে তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সে পরীক্ষা কেন্দ্রের মূল ফটকে অশ্রু ভেজা চোখে পরীক্ষার পুরো আড়াই ঘণ্টা সময় কখনো দাঁড়িয়ে আবার কখনো বসে কাটিয়ে দেয়। আবার যখন সবাই পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি যায় তখন সেও বাড়ি ফেরে। এভাবে পরপর দু'দিন সে পরীক্ষা কেন্দ্রের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। তার লেখাপাড়ার অনেক আগ্রহ। সে আর দশজন স্বাভাবিক ছেলেদের মতোই স্বাভাবিকভাবে লেখাপড়া শিখতে চায়। 

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য