শিরোনাম
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৮:১৫

রংপুর বিভাগে সেরা চরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

আব্দুল লতিফ লিটু, ঠাকুরগাঁও:

রংপুর বিভাগে সেরা চরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী নিভৃতপল্লীতে বকুয়া ইউনিয়নে নিজ উদ্যোগে গড়া চরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এবার রংপুর বিভাগে সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। বিদ্যালয়টির স্থাপনা ও কার্যক্রম সঠিকভাবে মূল্যায়ন করলে জাতীয় পর্যায়ে সেরা হবে দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের। 

শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিনোদনের জন্য প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় সংলগ্ন নিজ জমিতে তৈরি করেছেন শিশু পার্ক ও মিনি চিরিয়াখানা। প্রাচীরে শতাধিক মনিষীর ছবিসহ উক্তি, সিমেন্টের তৈরী হাতি, জিরাফ, হরিণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য পুকুরে নৌকা সংযোজনসহ গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া জিনিসপত্র সংরক্ষণ করেছেন তিনি। এছাড়াও নিজস্ব সবজির বাগান থেকে উৎপাদিত নানা রকম সবজি, পুকুরের মাছ ও পালন করা হাঁসের ডিম দিয়ে সপ্তাহে দুই দিন মিড ডে মিল চালু রেখেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এরফান আলী।

এই বিদ্যালয়টি ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে রংপুর বিভাগের প্রাথমিকের সেরা প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের ঝড়েপরা রোধ ও শিক্ষার মান উন্নয়নে ২০১১ সালে বিদ্যালয়টির হাল ধরেন গ্রামের দোকানে চা বিক্রেতা স্নাতক পাশ ছেলে এরফান আলী। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৪ জন শিক্ষক ও ৩ জন প্যারা শিক্ষক দিয়ে ৩শ ১ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।

স্থানীয়রা জানায়, এরফান আলীর শুরুটা খুব একটা মশৃণ ছিল না। পদে পদে বাধা আর হতাশা নিয়ে শুরু করে শিক্ষা সংগ্রাম। বিনা বেতনে বিদ্যালয়ে শিক্ষাদানের জন্য কাউকে না পেয়ে তার পথের সঙ্গী করেন স্ত্রী ও তিন বোনকে। পরিবারের পাঁচ জন মিলে এলাকাবাসীর দ্বারে দ্বারে ঘুরে গরীর ও ঝড়েপরা শিক্ষার্থীদের যোগার করে শুরু করেন তাদের শিক্ষিত করার যুদ্ধ।

প্রথমে অল্প জায়গাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণের জন্য মনোরম পরিবেশ গড়ে তোলেন। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় মুখী করতে দুপুরে খারার কার্যক্রম চালানোর চিন্তা করেন এরফান। বিদ্যালয়ের পাশে পুকুরে মাছের সাথে শুরু করেন হাঁসের চাষ। চারপাশে লাগান পেঁপের গাছ।

বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলাম বলেন, চরভিটা বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হলে তৎকালিন জেলা প্রশাসক মূকেশ চন্দ্র বিশ্বাস পরির্দশন করেন। ২০১৪ সালের শেষের দিকে বিদ্যালয়টিতে তৎকালিন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান এমপি 'মা সমাবেশ' করেন।

অবশেষে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের ঘোষণা পায় ২০১৬ সালে আর  জাতীয়করণ হয় ২০১৩ সালে। এরফানরা সরকারি বেতন পেতে শুরু করে ২০১৭ সালের মার্চ মাস থেকে।

এ ছাড়াও প্রধান শিক্ষক এরফান আলী নিজ উদ্যেগে চরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ থেকে ১৮ বছরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। যা ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (নিয়োগ শাখা)  এ. কে এম সাফায়েত আলম উদ্বোধন করেছেন।

মাত্র ৪০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হওয়া চরভিটা সরকারি বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০১ জন। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রাথমিকে কোন শিক্ষার্থী ফেল করেনি বিদ্যালয়টিতে। 

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, চরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফলাফল খুব ভাল। এরফান আলী শিক্ষা ক্ষেত্রে দেশের মডেল। চরভিটা এলাকায় একটি বিদ্যালয় জরুরি প্রয়োজন ছিল। এরফান সে চাহিদা পূরণ করতে পেরেছে। 

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য