শিরোনাম
প্রকাশ : ২ জুন, ২০২০ ২২:৪২

রংপুরে করোনায় সুস্থ হওয়া অনেকেই রক্ত দিতে আগ্রহী নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

রংপুরে করোনায় সুস্থ হওয়া অনেকেই রক্ত দিতে আগ্রহী নয়
প্রতীকী ছবি

রংপুরে করোনা প্রতিরোধে প্লাজমা থেরাপি মেশিন নেই। ফলে করোনা থেকে সেরে উঠা রোগীর রক্ত থেকে প্লাজামা নিয়ে আক্রান্ত রোগীর দেহে দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে খুব দ্রুত সভা করে প্লাজামা মেশিনের চাহিদাপত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হবে। তবে সুস্থ হওয়া রোগীর অনেকেই প্লাজামা দিতে আগ্রহ নেই বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। 

রংপুর স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি স্থানে করোনা রোগীদের প্লাজামা থেরাপি দেয়া হচ্ছে। এতে আক্রান্ত রোগীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন। কিন্তু রংপুরে প্লাজামা মেশিন না থাকায় ওই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন করোনা আক্রান্ত রোগীরা। 

স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, ২০ বছরের নিচে এবং ৫০ বছরের ঊর্ধে মানুষের দেহ থেকে প্লাজামা নেয়া যাবে না। এছাড়া গর্ভবতী, অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের থেকেও রক্ত নেয়া যাবেনা। 

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, রংপুর বিভাগে এ পর্যন্ত সাড়ে ৩উ বেশি করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এর মধ্যে ৫০ ঊর্ধ রোগীর সংখ্যা শতাধিক। ২০ বছরের নিচে রোগীর সংখ্যা ২৫ এর মত। এছাড়া অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫০ জন। সাড়ে ৩০০  সুস্থ রোগীর প্রায় ২০০ রোগীই বিভিন্ন কারণে রক্ত দেয়ার অনুপযোগি। বাদবাকি যারা রয়েছে তাদের অনেকেই রক্ত দিতে আগ্রহী নয়। 

তাই রংপুরে প্লাজামা মেশিন আনা অনেকটা গুরুত্বহীন মনে করছেন স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে করোনা আক্রান্ত রোগীর স্বজনরা মনে করছেন রংপুরে প্লাজামা মেশিন আনা হলে অনেক রোগীই উপকৃত হবেন।  

চিকিৎসকরা জানান, করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হলে তার রক্তে এক প্রকার এন্টিবডি তৈরী হয়। রক্তের হলুদাভ অংশ হচ্ছে প্লাজামা। সুস্থ হওয়া রোগীর রক্ত থেকে এই প্লাজামা সংগ্রহ করে আক্রান্ত রোগীর দেহে দিলে আক্রান্ত ওই রোগীর দেহে করোনা প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠে। ওই রোগী সুস্থ হয়ে উঠেন। প্লাজমা প্রতি একমাস অন্তর দেয়া যায়। তবে যারা করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন তাদের প্লাজামা দেয়ার আগ্রহ কম।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ পরিচালক ডা. আমিন আহমেদ খান বলেন, প্লাজামা মেশিন ক্রয় একটু ব্যয় সাপেক্ষ। আমারা দ্রুত সভা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের কাছে একটি প্লাজামা মেশিন চাইবো। বয়স ও অন্যান্য কারণে  সুস্থ হওয়া অনেক রোগীই প্লাজামা দেয়ার অনুপয়োগি। এছাড়া প্লাজামা দিতে অনেকেরই আগ্রহ নেই।


বিডি-প্রতিদিন/সিফাত আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর