শিরোনাম
প্রকাশ : ৬ আগস্ট, ২০২০ ১৮:১১

শরীয়তপুরে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার ওপরে

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

শরীয়তপুরে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার ওপরে

গত দুই দিন ধরে পদ্মার পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। দ্বিতীয় দফা বন্যার সঙ্কায় আতংকিত হয়ে পড়েছে বানভাসীরা। একমাসেরও বেশি সময় ধরে শরীয়তপুরের জাজিরা, নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ ও শরীয়তপুর সদর উপজেলা কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছে। 

গতকাল বুধবার (৫ আগস্ট) ডামুড্যা ও গোসাইরহাট উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে অন্তত ২০ হাজার পরিবার নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিনাতিপাত করছে এসব মানুষ। সরকারি ভাবে কিছু ত্রাণ বিতরণ করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অতি সামান্য। 

গো-খাদ্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। কাজ কর্ম না থাকায় বিপাকে পড়েছে শ্রমজীবী পরিবারের সদস্যরা। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় ফসলের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। পদ্মা নদীর সুরেশ্বর পয়েন্টে গত ২৪ ঘন্টায় ১৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকালের জোয়ারের সময় বিপদ সিমার ৪১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। 

ভেদরগঞ্জ উপজেলা চরসেন্সাস গ্রামের আফজাল হোসেন বলেন, এতদিন বাড়ির আশপাশে পানি ছিল। পানি কমতে শুরু করায় ভাবছিলাম হয়তো এযাত্রায় বাড়িতে পানি উঠবে না। কিন্তু কাল বিকেলে হঠাৎ বাড়িতে পানি ঢুকেছে। পানি এখন ঘর ছুই ছুই করছে। 

নড়িয়া উপজেলার কোক্তাকারের চরের আম্বিয়া বিবি বলেন, একমাস ধরে পানিতে ডুবতেছি। কেউ খোঁজ নেয়নি। এক কেজি চালও কেউ দেয়নি। আল্লাহ ছাড়া আমাদের কেউ নাই। শুনি মানুষ ত্রান পায় আমাদের কেউ দেয় না।

এদিকে, পদ্মার প্রবল স্রোতে নদী ভাঙন আগ্রাসী রুপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দু'টি ভবন নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। বহু মানুষ ভাঙন আতংকে নিরাপদ স্থানে বাড়ি ঘর সরিয়ে নিচ্ছে। গত দু'দিনে নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দরবার শরীফ রক্ষা বাধের প্রায় ৫৫ মিটার পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে দরবার শরীফ ও আশেপাশের লোকজন নতুন করে বাড়িঘর হারানোর ভয়ে ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। ভাঙন রোধে ওই স্থানে সিসি ব্লক ও জিওব্যাগ ডাম্পিং করছে শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড। 

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবিব জানিয়েছেন, পদ্মা নদীর প্রবল স্রোতে নদীর তলদেশ থেকে জিওব্যাগ ও সিসি ব্লক সরে যাওয়ায় সুরেশ্বর দরবার শরীফ রক্ষা বাধে ভাঙনের মুখে পড়েছে। ভাঙ্গন রোধে ইতোমধ্যে প্রায় ৩৬ হাজার জিওব্যাগ ও সাড়ে ৩ হাজার সিসি ব্লক ডাম্পিং করা হয়েছে। ডাম্পিং কাজ চলমান রয়েছে। 


বিডি-প্রতিদিন/সিফাত আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য