শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৭:৩৪

নেত্রকোনায় ট্রলার ডুবির ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনায় ট্রলার ডুবির ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় গুমাই নদীতে ট্রলার ডুবিতে ১২ জন নিহতের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। ঘটনার পর এলাকা পরিদর্শন করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন জেলা প্রশাসক কাজী আবদুর রহমান। গঠিত এই কমিটি ১১ দিন পরে সোমবার দুপুরে মোট পাঁচটি সুপারিশ তুলে ধরে প্রতিবেদনটি জমা দেয়।

প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জেলা প্রশাসক কাজি আবদুর রহমান জানান, প্রতিবেদনে একটিই কারণ রয়েছে সেটি অদক্ষ চালকের ওভারটেকের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ট্রলারটি কলমাকান্দার রাজনগর এলাকায় আসলে একটি ঘাটে যাত্রী তোলার তোলা ছিলো। এদিকে অপর একটি বলগেটকে ওভারটেক করতে গিয়েই যাত্রী তুলতে এগিয়ে যাওয়ার সময় ট্রলারটি ডুবে যায়। যে কারণে ১২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। ১০ জনের লাশ ওইদিনই স্থানীয়রা উদ্ধার করে। দুদিন পরে আরও দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চালকসহ ৫ আসামি হাজতে আছে।

তিনি আরও জানান, এই ঘটনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই। কিছু সুপারিশ ওঠে এসেছে যা পর্যায়ক্রমে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কি কি নৌযান চলাচল করে আমরা ইতিমধ্যেই সেগুলোর তালিকা করতে বলে দিয়েছি। নৌ-রুটগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর লাইসেন্স নিয়ে অধিক ক্ষমতা সম্পন্ন নৌযান চালানোর জন্য আমরা নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছি। পাশপাশি খারাপ আবহাওয়ায় কোন নৌকা চলাচল করতে পারবে না।

উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর সকালে ঠাকুরাকোনার উদ্দেশ্যে সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী ট্রলার গুমাই নদীতে বলগেটকে ওভারটেক করতে গিয়ে ডুবে যায়। এতে ট্রলারের ভেতরে থাকা নারী-শিশুরা মারা যায়। ঘটনার দিনই স্থানীয়রা ৫ নারী ও ৫ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর দুদিন বাদে আরও দুজনের মরদেহ ভেসে উঠে। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে দেন।

ঘটনার দুদিন পর আব্দুল ওয়াহাব (৪০) নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় মামলা করেন। আব্দুল ওয়াহাব সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ইনাতনগর গ্রামের বাসিন্দা। ওই দুর্ঘটনায় তিনি বেঁচে গেলেও তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে মারা যায়। মামলায় ট্রলার চালক সোহাগ মিয়াসহ (৩৫) ছয়জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ পাঁচজন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। কিন্তু ট্রলার চালককে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর