শিরোনাম
প্রকাশ : ৭ মে, ২০২১ ১৮:১৮
আপডেট : ৭ মে, ২০২১ ১৮:২৯
প্রিন্ট করুন printer

সমলয়ে ধান চাষ; অল্প খরচে অধিক লাভ

দীপংকর ভট্টাচার্য লিটন, শ্রীমঙ্গল

সমলয়ে ধান চাষ; অল্প খরচে অধিক লাভ
Google News

দেশে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কৃষি কাজে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার। গবেষকরা উদ্ভাবন করছেন নতুন নতুন উচ্চ ফলনশীল বীজ। আর এবার ধানের উৎপাদন বাড়াতে পরিবর্তন আনা হয়েছে চাষাবাদে। নতুন এ পদ্ধতির নাম সমলয় পদ্ধতি। যে পদ্ধতির কথা বলে গিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৩ সালে সবুজ বিল্পবের ডাক দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবাইকে সমবায়ের মাধ্যমে চাষাবাদ করার কথা বলেছিলেন। আজ ৪৮ বছর পর বঙ্গবন্ধুর সেই দেখানো পথেই চলতি বোর মৌসুমে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সমলয় পদ্ধতিতে জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে।

এতে  লাভবান হয়েছেন কৃষকরা। একর প্রতি উৎপাদন হয়েছে ৭৫ মন ধান। যা প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে দ্বিগুন বেশি। খরচও হয়েছে কম। বেচেঁছে কৃষকের সময় ও শ্রম। 

এবছর সরকারি প্রনোদনায় শ্রীমঙ্গল উপজেলায় সমলয় পদ্ধতিতে ধান চাষের প্রদশর্ণী প্লট দেয়া হয়েছিল। আশিদ্রোন ইউনিয়নের পশ্চিম আশিদ্রোন গ্রামের ৪৮ জন কৃষককে একত্রিত করে ৫০ বিঘা জমিতে এই পদ্ধতিতে হাইব্রিড টিয়া জাতের ধান রোপন করানো হয়েছিল। ১৭ জানুয়ারি ট্রান্সপ্লান্টার দিয়ে জমিতে ধান রোপন করা হয়। আর ১৩০ দিন পরে কম্বাইন হার্ভেস্টার দিয়ে ধান কাটা হয়। ফলন হয়েছে ৩৭৫০ মন। আর স্থানীয় প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষ করলে ফলন হতো মাত্র ৯০ টন। 

স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে জানা যায়, সমলয় পদ্ধতি হলো সবাই মিলে এক সাথে একই সময়ে একই জাতের ধান রোপন করা। এই পদ্ধতিতে ধান আবাদ করতে হলে ধানের চারা তৈরি করতে হবে ট্রেতে। আর ট্রেতে চারা উৎপাদন করলে মাঠে জমির অপচয় কম হবে। সেই চারা রোপন করতে হবে রাইচ ট্রান্সপ্লান্টার মেশিন দিয়ে। এতে করে সব চারা একই গভীরতায় এক সমানভাবে লাগানো যায়।

জমিতে সার, কীটনাশক দিতে হবে এক সাথে। জমির আগাছা পরিস্কার করতে হবে এক সাথে একই সময়ে। এক সাথে রোপন করায় সব ধান পাকবেও একই সময়ে। তখন হারবেস্টার মেশিন দিয়ে একই সাথে সব ধান কাটতে হবে। ধান মাড়াই ও বস্তাবন্ধীও করতে হবে একই সাথে একই সময়ে। এ পদ্ধতিতে ধান চাষ করলে একদিকে উৎপাদন হবে বেশী হবে, অন্যদিকে কৃষকের  সময়, শ্রম ও খরচ কম লাগবে। 

কৃষি অফিসের দেয়া এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রচলিত নিয়মে ৫০ একর জমি চাষাবাদ করতে খরচ হয় ৩৩ হাজার ৭শ ৫০ টাকা। এর মধ্য বীজতলা তৈরী ২৫০০ টাকা, বীজ রোপন ৭৫০০ টাকা, জমি তৈরী ৩৬০০, কীটনাশক ৩০০০, সেচ ৫০০, কাটা, মাড়াই-ঝাড়াই ১৩ হাজার ৫শত টাকা।  আর সময়লয় পদ্ধতিতে খরচ হয় ২৫ হাজার ৫ শত টাকা। এই পদ্ধতিতে ১৫০০ টাকায় বীজতলা তৈরী করা যায়। বীজ রোপনে খরচ হয় ২১০০ টাকা। জমি তৈরী ৩৬০০, এ পদ্ধতিকে জমিতে কীটনাশক দিতে হয় না। সার ৩০০০ ও সেচে ৫০০ টাকা খরচ হয়। আর ধান কাটা, মাড়াই-ঝাড়া য়ে খরচ হয় মাত্র ৪ হাজার ৫শত টাকা।   

কৃষক উজ্জল মিয়া জানান, তিনি এবার প্রথম সমলয় পদ্ধতিতে ধান চাষ করেছেন। ৫০ একরের মধ্য তার ছিল ৩ একর জমি। ১৭০ মন ধান পেয়েছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে করলে তিনি পেতেন ৮০ মন ধান। 
কৃষক ফজুর মিয়া জানান, নতুন এই নিয়মে ধান চাষ করে খুব ভাল ফলন হয়েছে। খরচ কম লেয়েছে। জমি ভাল হলে ফলন আরো বেশী হবে। আমাগীতে তিনি এই পদ্ধতিতেই ধান চাষ করবেন বলে জানান। 

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি বলেন, সবার মন একরকম না হলে কোন কাজ সঠিক ভাবে করা যায় না। যে কোন কাজ সবাই মিলে এক সাথে করলে সে কাজের ফল ভাল হয়। আমরা এ উপজেলার কয়েকজন কৃষককে এক সাথে করে সমলয়ে ধান চাষ করিয়েছিলাম। সব কৃষক সমবার ভিত্তিতে এক জমিতে এক সাথে এক জাত ধান চাষ করায় খুব ভাল ফলন হয়েছে। মূলত এই পদ্ধতির সাথে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে আমারে এই প্রচেষ্টা। 

মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. লুৎফুর বারী বলেন, সমলয় পদ্ধতিতে ধান চাষ করা কৃষকদের জন্য খুব লাভজনক। সবুজ বিল্পবের ডাক দিয়ে বঙ্গবন্ধু সমবায়ের মাধ্যমে চাষাবাদ করার আহব্বান করেছিলেন। আমরা এই বছর জেলার শুধু একটি উপজেলায় এই পদ্ধতিতে কৃষকদের দিয়ে ধান চাষ করিয়েছে। আগামীতে সমলয় পদ্ধতিতে ধানের চাষ আরো বাড়ানো হবে।
 
বিডি প্রতিদিন/আল আমীন