২৫ জুলাই, ২০২১ ১৫:৫৭

ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল

বরিশালের পোর্ট রোড ইলিশ মোকামে

ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল দেখা দিয়েছে বরিশালের পোর্ট রোড ইলিশ মোকামে। নদী সাগর থেকে আহরিত কিছু ইলিশ আসলেও দাম চড়া। মাছের সরবরাহ কম থাকায় আয় রোজগার হারিয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন মৎস্য শ্রমিকরা। গভীর সমুদ্রে সৃষ্ট লঘুচাপের জন্য মাছ ধরা ট্রলারগুলো শূন্য হাতে ফিরে আসায় বাজারে ইলিশের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন আড়তদাররা। তবে আগামী দিনগুলোতে প্রচুর ইলিশ সরবরাহ হবে বলে আশা করছেন তারা। 

সাগরে সব ধরনের মাছ শিকারে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে গত ২৩ জুলাই। অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতেও এই মুহূর্তে ইলিশ শিকারে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু তারপরও দক্ষিণের সর্ববৃহত ইলিশ মোকাম পোর্ট রোড আড়ত অনেকটাই ইলিশ শূন্য। গতকাল রবিবার দেড়শ’ থেকে ২শ’ মণ ইলিশ এসেছে মোকামে। এর আগে শনিবার প্রায় ৫শ’ মণ এবং নিষেধাজ্ঞার পর দিন গত শুক্রবার প্রায় ৯শ’ মণ ইলিশ এসেছে মোকামে। 

পোর্ট রোডের ইলিশ বিক্রেতা মো. হারুন জানান, বৈরী আবহাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ শিকার করতে গভীর সমুদ্রে যাওয়া ট্রলারগুলো ফিরে আসছে। অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতেও তেমন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বাজারে ইলিশের সরবরাহ একেবারে কম। আড়তে মাছ না থাকায় মাছের উপর নির্ভরশীল শ্রমিকরা আয় রোজগার হারিয়ে বেকাদায় পড়েছেন বলে তিনি জানান। 

আড়তদার নাসির উদ্দিন জানান, এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। এই মুহূর্তে প্রতিদিন অন্তত হাজারো মণ ইলিশ আসার কথা বরিশাল মোকামে। স্থানীয় নদ-নদীর কিছু ইলিশ মোকামে আসলেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় দাম চড়া। 

গতকাল বরিশাল মোকামে ১ কেজি ২শ’ গ্রাম সাইজের প্রতি মণ ইলিশ পাইকারি ৪৬ হাজার, কেজি সাইজের প্রতি মণ ৪১ হাজার, রপ্তানিযোগ্য এলসি সাইজ (৬শ’ থেকে ৯শ’ গ্রাম) প্রতি মণ ৩৮ হাজার, ৪শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ গ্রাম সাইজের (ভেলকা) প্রতি মণ ২১ হাজার এবং গোটলা সাইজ (আড়াই শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ গ্রাম) প্রতি মণ ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। 

ভরা মৌসুমেও ইলিশের চড়া দাম হওয়ায় হতাশ ক্রেতারা। আগামী দিনগুলোতে ইলিশের দাম কমার আশায় রয়েছেন তারা। ইলিশ ক্রেতা অঞ্জনা রায় বলেন, এখন ইলিশের যে দাম থাকা উচিত ছিলো তার চেয়ে দাম অনেক বেশী। এই মুহূর্তে ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। 

বরিশাল জেলা মৎস্য আড়তদার এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রিপন বলেন, সাগর থেকে ট্রলারগুলো ফিরে আসলে ইলিশের সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি দামও কমবে। আষাড়-শ্রাবণ-ভাদ্র এই ৩ মাস ইলিশের প্রধান মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয় বলে তিনি জানান। 

 

বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির 

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর