ঢাকা যাওয়ার কথা বলে নরসিংদীর বাসা থেকে বের হওয়ার দুই দিন পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে রিমন মিয়া নামে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন নবীনগর উপজেলার নতুন থোল্লাকান্দি গ্রামের কুদ্দুছ মিয়ার ছেলে মো. হারিছ (২৬) এবং বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দড়িকান্দি গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন ওরফে বাবু (৩৬)।
বুধবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
নিহত রিমন মিয়া নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের নতুন থোল্লাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে নরসিংদীতে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ মে সকাল ১১টার দিকে রিমন ঢাকা যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন। তার স্ত্রী সুমী আক্তার জানান, বের হওয়ার আগে একটি ফোনকল আসে। প্রথমে যেতে নিষেধ করলেও পরে আবার ফোন পেয়ে তিনি বাসা থেকে বের হন। যাওয়ার সময় স্ত্রীকে বলেন, নাস্তা করে ফিরে আসবেন এবং বিকেলে বাসায় ফিরবেন। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, তাকে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রাখা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে স্থানীয়রা বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মরিচাকান্দি-উলুকান্দি কলেজ সড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মরদেহে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা ফোরকান মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের সম্পৃক্ততার সন্দেহ পাওয়া গেছে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মোবাইল কল রেকর্ড ও গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
বিডি-প্রতিদিন/এআইএস