শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২১ মে, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ মে, ২০১৬ ২৩:৫২

পুণ্যময় রজনী ‘শবেবরাত’

মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন

পুণ্যময় রজনী ‘শবেবরাত’

শব ফার্সি শব্দ। এর অর্থ রাত। বরাত আরবি শব্দ। এর কয়েকটি অর্থ আছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অর্থ হলো মুক্তি। তাই শবেবরাত অর্থ মুক্তির রজনী। আরবি শাবান মাসের পনেরোতম রজনীকে শবেবরাত বলে। এই পুণ্যময় রজনীর ফজিলত ও তাত্পর্য সরাসরি পবিত্র কোরআন শরিফে বর্ণিত না হলেও বেশ কিছু হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এমনিতেই শাবান মাস একটি বরকতপূর্ণ মাস। আমলের মাস। ইবাদতের মাস। তাছাড়া যে কোনো আমল করার জন্য হাদিস শরিফের বর্ণনা যথেষ্ট। তাই শবেবরাতের ইবাদত-বন্দেগি যুক্তিসঙ্গত। এ মাসে রসুল (সা.) ইবাদত-বন্দেগি বাড়িয়ে দিতেন। রাতে নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তেন। দিনে নফল রোজা রাখতেন। আর দোয়া করতেন, ‘হে আল্লাহ! রজব মাস ও শাবান মাসে বরকত দান কর। এবং (আমল করার জন্য) রমজান মাস আমাদের পৌঁছাও।’ প্রিয় নবীজির প্রিয় সাহাবি হজরত আলী (রা.) বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন, যখন শাবান মাসের পনেরোতম রজনী আসে তোমরা রাতে নামাজ পড় এবং দিনে রোজা রাখ। কারণ, আল্লাহতায়ালা সেদিন সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে দুনিয়ার আসমানে আসেন এবং বলতে থাকেন, কেউ আছে কি গুনাহ মাফ চাইবে? আমি তার গুনাহ মাপ করে দেব। কেউ আছে কি রিজিক চাইবে? আমি তাকে রিজিক দান করব। কেউ আছে কি অসুস্থ? আমি তাকে সুস্থ করে দেব। আল্লাহপাক এভাবে ডাকতে থাকেন ভোর পর্যন্ত। ইবনে মাজাহ। অপর হাদিসে ইরশাদ হচ্ছে, হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, একদিন রসুল (সা.) বললেন, আজকের রজনীতে (শবেবরাতে) কী কী হয় তোমরা কী জান? আয়েশা (রা.) বললেন, আপনি বলুন এই রজনীতে কী কী হয়? রসুল (সা.) বললেন, আজকের রজনীতে আগামী এক বছরে পৃথিবীতে আগমনকারী আদম সন্তানদের নাম লেখা হয়। আগামী এক বছরে পৃথিবী থেকে কে কে বিদায় নেবে তাদের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়। এই রজনীতে মানুষের আমলনামা আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়। মানুষের রিজিক আল্লাহর কাছ থেকে বরাদ্দ হয়। বায়হাকি। পবিত্র শবেবরাতে আমাদের উচিত সারা রাত বিভিন্ন নেক আমল করে কাটিয়ে দেওয়া। জিকির করা। কোরআন তেলাওয়াত করা। নফল নামাজ পড়া। সম্ভব হলে সালাতুস তাসবিহ নামাজ পড়া। যেসব আত্মীয়স্বজন ও প্রিয়জন পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে তাদের কবর জেয়ারত করা। নিজের কৃত গুনাহগুলোর কথা স্মরণ করে মহান পরওয়ারদেগারের দরবারে কান্নাকাটি করা। সেহরি খেয়ে পরদিন রোজা রাখা। পুণ্যময় শবেবরাতে সবার গুনাহ মাপ হলেও দুই ব্যক্তির গুনাহ মাপ হয় না। এক. আল্লাহর সঙ্গে শরিককারী। দুই. হিংসুক। অর্থাৎ এই দুই ব্যক্তির অপরাধ এতটাই জঘন্য যে, শবেবরাতের মতো পবিত্র রাতেও তা মাপ হয় না। এ প্রসঙ্গে হাদিসে পাকে ইরশাদ হচ্ছে, হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) বলেন, রসুল (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহপাক শাবান মাসের পনেরোতম রজনীতে সমগ্র সৃষ্টিকুলের প্রতি মনোযোগ দেন। অতঃপর সবাইকে ক্ষমা করে দেন দুই ব্যক্তি ছাড়া। তারা হলো, ১. আল্লাহর সঙ্গে শরিককারী ২. হিংসুক। ইবনে মাজাহ। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে শবেবরাতের তাত্পর্য অনুধাবন করে এই রাতে বেশি বেশি ইবাদত করার তৌফিক দান করুন।  আমিন

 

     লেখক : খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা।


আপনার মন্তব্য