শিরোনাম
মঙ্গলবার, ১২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা

লোকসানি প্রতিষ্ঠান বিমান

দুর্নীতি বন্ধের উদ্যোগ নিন

জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস গত অর্থবছরে ২০১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছে। জাতীয় সংসদে এমন একটি অনাকাক্সিক্ষত তথ্য জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী। সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেছেন, গত অর্থবছরে বিমানের মোট আয় হয়েছিল ৪ হাজার ৯৩১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ১৩৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। এ দুঃসংবাদের পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী সংসদকে জানিয়েছেন, গত অর্থবছরের আগের তিন অর্থবছরে বিমান লাভে ছিল। এর মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে লাভ করেছে ৪৬ কোটি ৭৬; ২০১৫-১৬ অর্থবছরে লাভ করেছে ২৩৫ কোটি ৫০ লাখ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে লাভ করেছে ২৭৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। তবে গত অর্থবছরে উড়োজাহাজের জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির কারণে খরচ বেড়ে যাওয়াসহ বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন ও এয়ারক্রাফট ক্রু মেইনটেন্যান্স ইন্স্যুরেন্সের কারণে বিমানকে ২০১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা লোকসান দিতে হয়েছে। বিমানকে লাভজনক করার লক্ষ্যে নতুন নতুন রুট চিহ্নিতকরণ এবং বর্তমান লাভজনক রুটে ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। গুয়াংজু, মদিনা, কলম্বো, মালে ইত্যাদি রুটে অদূর ভবিষ্যতে বিমানের সার্ভিস চালু করার পরিকল্পনার কথাও বলেছেন মন্ত্রী। সন্দেহ নেই বর্তমান সরকারের আমলে বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার নানামুখী চেষ্টা চলছে। এ প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধে নেওয়া হচ্ছে নানামুখী প্রয়াস। কিন্তু বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরোর কারণে বিমানের পক্ষে লোকসানের অভিশাপ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা এ কলামে বার বার বলেছি, ১৬ কোটিরও বেশি মানুষের দেশের প্রতিনিধিত্ব করে যে বিমান সংস্থাটি তাদের লোকসানের বোঝা বইবার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই। কারণ দেশের প্রায় কোটি মানুষ প্রবাসে অবস্থান করেন। প্রবাসে যাওয়া এবং দেশে আসার ক্ষেত্রে তারা বিমানকেই তাদের বাহন হিসেবে বেছে নেন। বছরে ২ লাখের বেশি মানুষ হজ ও ওমরাহর জন্য বিমানে যাতায়াত করেন। কিন্তু লিজে উড়োজাহাজ নিয়ে নিজেদের পকেট ভরা এবং প্রতি ক্ষেত্রে দুর্নীতির আসর বিমানকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হলে সেসব ক্ষেত্রে হাত দিতে হবে।

সর্বশেষ খবর