Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:৩০

বিজিএমইএ ভবন ভাঙা

প্রমাণিত হলো আদালতের হাত অনেক লম্বা

বিজিএমইএ ভবন ভাঙা

বিজিএমইএ ভবন ভাঙার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো আইনের হাত অনেক লম্বা। পরাক্রমশালী বলে যাদের ভাবা হয় তারাও রেহাই পান না অন্যায় করে। একই সঙ্গে দেশে বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ যে এখনো রয়ে গেছে সে সত্যটিও স্পষ্ট করেছে ভবন ভাঙার ঘটনা। দেশে দুজন প্রধানমন্ত্রী এ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং নির্মাণকাজ উদ্বোধনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার পরও আদালত রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেনি। হাতিরঝিলের যে স্থানটি ভরাট করে ভবনটি গড়ে তোলা হয়েছিল সেখানে একসময় ছিল নদী। কালের বিবর্তনে মানুষের কাণ্ডজ্ঞানহীনতার শিকার হয়ে নদী তার অস্তিত্ব হারালেও ঝিল আকারে জলাশয়ের অস্তিত্ব ছিল। তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের দাপুটে সংগঠন বিজিএমইএ ১৯৯৮ সালে সরকারের কাছ থেকে জমি বরাদ্দ নিয়ে হাতিরঝিলে ভবন নির্মাণ শুরু করে। নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০০৭ সালে। সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নজরে আনা হলে ২০১০ সালের ৩ অক্টোবর হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল দেয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিজিএমইএ ভবন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাই কোর্ট। রায়ে ওই ভবনটিকে ‘ক্যান্সার’ বলে উল্লেখ করা হয়। এ রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভবন ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত। এর বিরুদ্ধে বিজিএমইএ আপিল করলে ২০১৬ সালের ২ জুন তা খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ। সর্বশেষ মুচলেকা দিয়ে এক বছরের সময় নেয় বিজিএমইএ। সময় শেষ হওয়ার পর ভবনটি ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ডিনামাইট ব্যবহার করে বিধ্বস্ত করা হবে বিশাল এ ভবনটি। তারপর ভবনের ধ্বংসস্তূপ অপসারণ করে হাতিরঝিলের ওই এলাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হবে। বিজিএমইএ ভবন ভাঙার ঘটনা প্রমাণ করেছে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনের ঊর্ধ্বে নয়। পরাক্রমশালী সংগঠন বিজিএমইএর অবৈধ ভবন ভাঙার নির্দেশনা প্রশংসাজনক হলেও এ অবৈধ ভবন নির্মাণে যারা মদদ জুগিয়েছে তাদের শাস্তি না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। জলাশয়ে ভবন নির্মাণ অবৈধ হলেও রাজউক নামের শ্বেতহস্তীর কর্তাব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণকাজ শুরুর অনুষ্ঠানে। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের যেসব কর্মকর্তা একটি অবৈধ ভবন উদ্বোধনের জন্য মিথ্যা তথ্য দিয়ে দুই সরকারপ্রধানকে সেখানে যেতে প্ররোচিত করেছিলেন তাদেরও শাস্তি হওয়া উচিত র্ছিল। তার পরও ভবন ভাঙার ঘটনাটি দেশে আইনের শাসন ও বিচারপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

 


আপনার মন্তব্য