শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:২২

কোরবানির পশুর বৈশিষ্ট্য

শাহ মাহমুদ হাসান

কোরবানির পশুর বৈশিষ্ট্য

কোরবানির পশু সুন্দর ও নিখুঁত হওয়া বাঞ্ছনীয়। কেননা রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন কোরবানির পশু পশম, খুরম শিংসহ উপস্থিত হবে।’ ইবনে মাজাহ। অন্য হাদিসে এসেছে, ‘তোমরা কোরবানির পশু শক্তিশালী ও মোটাতাজা দেখে নির্বাচন কর। কারণ, এগুলো পুলসিরাতের ওপর তোমাদের বাহন হবে।’ মুসনাদুল ফিরদাউস। তাই কোরবানি শুদ্ধ হওয়ার জন্য অন্তত তিনটি বিষয়ের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখা দরকার- প্রথমত, কোরবানির পশু হতে হবে দোষত্রুটিমুক্ত। পশুর মধ্যে যেসব ত্রুটি থাকলে কোরবানি দেওয়া যাবে না সেগুলো হচ্ছে- ১. দৃষ্টিশক্তি না থাকা ২. শ্রবণশক্তি না থাকা ৩. অত্যন্ত দুর্বল, জীর্ণশীর্ণ হওয়া ৪. এই পরিমাণ ল্যাংড়া যে, জবাই করার স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে অক্ষম ৫. লেজের অধিকাংশ কাটা ৬. জন্মগতভাবে কান না থাকা ৭. কানের অধিকাংশ কাটা ৮. গোড়াসহ শিং উপড়ে যাওয়া ৯. পাগল হওয়ার কারণে ঘাসপানি ঠিকমতো না খাওয়া ১০.  অধিকাংশ দাঁত না থাকা ১১. রোগের কারণে স্তনের দুধ শুকিয়ে যাওয়া ১২. ছাগলের দুটি দুধের যে কোনো একটি কাটা ১৩. গরু বা মহিষের চারটি দুধের যে কোনো দুটি কাটা। মোট কথা কোরবানির পশু বড় ধরনের দোষত্রুটি থেকে মুক্ত হবে। যেমন হাদিসে এসেছে, ‘চার ধরনের পশু, যা দিয়ে কোরবানি জায়েজ হবে না। অন্ধ, যার অন্ধত্ব স্পষ্ট; রোগাক্রান্ত, যার রোগ স্পষ্ট; পঙ্গু, যার পঙ্গুত্ব স্পষ্ট ও আহত, যার কোনো অঙ্গ ভেঙে গেছে।’ ইবনে মাজাহ।

দ্বিতীয়ত, পশুর মধ্যে যেসব ত্রুটি থাকলেও কোরবানি দেওয়া যাবে সেগুলো হচ্ছেÑ ১. গর্ভবতী পশু। জবাই করার পর বাচ্চা জীবিত থাকলে সেটিও জবাই করতে হবে। কিন্ত বাচ্চা প্রসবের সময় আসন্ন হলে সে পশু কোরবানি করা মাকরুহ ২. পশু পাগল, তবে ঘাস-পানি ঠিকমতো খায় ৩. লেজ বা কানের কিছু অংশ কাটা, তবে অধিকাংশ আছে ৪. জন্মগতভাবে শিং নেই ৫. শিং আছে, তবে ভাঙা ৬. কান আছে, তবে ছোট ৭. পশুর একটি পা ভাঙা, তবে তিন পা দিয়ে সে চলতে পারে ৮. পশুর গায়ে চর্মরোগ ৯. কিছু দাঁত নেই, তবে অধিকাংশ আছে। স্বভাবগত এক অ-কোষবিশিষ্ট পশু ১০. পশু বয়োবৃদ্ধ হওয়ার কারণে বাচ্চা জন্মদানে অক্ষম। তবে উত্তম হচ্ছে ত্রুটিমুক্ত পশু দিয়ে কোরবানি দেওয়া, ত্রুটিযুক্ত পশু দ্বারা কোরবানি দেওয়া অনুচিত।

তৃতীয়ত, কোরবানির পশু, পশুর বয়স ও শরিকি কোরবানির ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখতে হবে তা হচ্ছেÑ কোরবানির পশু হচ্ছে উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ইত্যাদি। উট কমপক্ষে পাঁচ বছরের হতে হবে। গরু, মহিষ কমপক্ষে দুই বছরের হতে হবে। ছাগল, ভেড়া, দুম্বা কমপক্ষে এক বছরের হতে হবে।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।


আপনার মন্তব্য