Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২২:৫৪

মানব পাচার বন্ধ হোক

ডাবল স্ট্যান্ড প্রত্যাশিত নয়

মানব পাচার বন্ধ হোক

দুনিয়ার যেসব দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি মানব পাচারের ঘটনা ঘটছে বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি। জাতির জন্য লজ্জা ও অপমানের হলেও মানব পাচার বন্ধে প্রশাসনিক উদ্যোগে কতটা আন্তরিকতা রয়েছে তা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। বছর কয়েক আগে লেবাননে গৃহকর্মীর কাজ দেওয়ার নামে এক গৃহবধূকে যুদ্ধাক্রান্ত সিরিয়ায় পাঠায় রিক্রুটিং এজেন্সি নামধারী মানব পাচারকারীরা। তাকে সেখানে বিক্রি করে দেওয়া হয় যৌনকর্মী হিসেবে। একটানা নয় মাস চলে তার ওপর যৌন নির্যাতন। হাঁটাচলা করার শক্তি প্রায় হারিয়ে ফেলা ওই গ্রাম্যবধূ দেশে ফেরার সুযোগ পান র‌্যাবের সহায়তায়। তাকে দেশে আনার আগেই মানব পাচার আইনে দোষী রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে মামলা করে র‌্যাব। কিন্তু গ্রাম্যবধূর জীবন ধ্বংস করে দেওয়া সেই রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ‘অপেক্ষাকৃত কঠোর’ মানব পাচার আইনে মামলা না নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। চিঠিতে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। এর ফলে দেশ হারাচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা। মানব পাচার আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-, অন্যদিকে অভিবাসন আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছরের জেল। তাই মানব পাচার আইনের পরিবর্তে রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইনে মামলা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন এক শীর্ষব্যক্তির চিঠিতে। মামলা করার প্রায় পাঁচ বছর পার হওয়ায় এখন বিচারের আশা এক রকম ছেড়েই দিয়েছেন ওই গৃহবধূ। মানব পাচার বন্ধে সরকার যখন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তখন অপরাধীদের বাঁচাতে সরকার বা প্রশাসনে সরিষার ভূতদের অবস্থান দুর্ভাগ্যজনক। মানব পাচার আইনে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৬৮টি মামলা হলেও এর মধ্যে মাত্র ২৪৫টি নিষ্পত্তি হয়েছে। অন্য আদালতে স্থানান্তর হয়েছে ৩১৭টি মামলা। ৪ হাজার ১০৬টি মামলা এখনো বিচারাধীন। বিচারে দীর্ঘসূত্রতার কারণে বাদীপক্ষ কার্যত ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। মানব পাচার বন্ধ করতে হলে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর হতে হবে। রেমিট্যান্স আয় দেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হলেও এজন্য মানব পাচারকারীদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে ডাবল স্ট্যান্ডের অবসান ঘটাতে হবে।

 

 


আপনার মন্তব্য