শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:১৪

প্লাস্টিক ও পলিথিন পণ্য

আদালতের নিষেধাজ্ঞা পালিত হোক

প্লাস্টিক ও পলিথিন পণ্য

ওয়ানটাইম প্লাস্টিক পণ্য ইতিমধ্যে দেশের পরিবেশের জন্য আপদ হয়ে দেখা দিয়েছে। এর ব্যবহার যত বাড়ছে পরিবেশের জন্য ততটাই বিপদ ডেকে আনছে। আর পলিথিনের কাছে দেশ ও জাতির জিম্মি অবস্থার অবসান কিছুতেই ঘটছে না। পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারে আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা কার্যকরের কোনো অথরিটি দেশে আছে বলে মনে হয় না। এসব দেখভাল করার জন্য জনগণের ট্যাক্সের টাকায় যাদের পোষা হয় তাদের আনুগত্য পলিথিন উৎপাদনকারীদের প্রতি। সোজা কথায়, তাদের কাছে নিজেদের বিবেককে বিক্রি করে দেওয়ায় নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ অবাধে ব্যবহৃত হচ্ছে। সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে কুম্ভকর্ণের ঘুমে থাকলেও হতাশার মধ্যে আশার আলো জ্বালাতে পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এগিয়ে এসেছে দেশের উচ্চ আদালত। সোমবার এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ রুলসহ উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশের হোটেল, মোটেল ও রেস্টুরেন্টে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার এক বছরের মধ্যে নিষিদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে পলিথিন ব্যবহার বন্ধে বিদ্যমান আইনি নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকরের জন্য বাজার তদারকি এবং পলিথিন উৎপাদনকারী যন্ত্রপাতি জব্দ ও কারখানা বন্ধের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের ৫ জানুয়ারির মধ্যে রিটের বিবাদীদের এ আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আদালত তার রুলে ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সারা দেশে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্যের বিপরীতে নিরাপদ বিকল্প কী হতে পারে সে বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছে। একই সঙ্গে পলিথিন ব্যাগ বন্ধে বিদ্যমান আইনি নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে সরকারকে কেন ব্যর্থ বলা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আদালতে বেলার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও সাঈদ আহমদ কবির। আমাদের বিশ্বাস, পলিথিন এবং ওয়ান টাইম প্লাস্টিক পণ্যের আগ্রাসন বন্ধে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসন সক্রিয় হবে। এটি তাদের কর্তব্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত।


আপনার মন্তব্য