শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:০০

মুসলমানকে গালি দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি

মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন

মুসলমানকে গালি দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি

আজকের পৃথিবীতে এক মুসলমান আরেক মুসলমানকে যতটা শত্রু মনে করে, কাফিরকেও সম্ভবত ততটা প্রতিপক্ষ মনে করে না। একজন নামাজি আরেকজন নামাজির নামাজ পড়ার পদ্ধতি নিয়ে যতবার কটাক্ষ করে বেনামাজিকে কীভাবে নামাজি বানানো যায় সে চিন্তা ততবার করে না। একটি ইসলামী সংগঠন আরেকটি ইসলামী সংগঠনকে নিজেদের জন্য  যে  পরিমাণ হুমকি মনে করে, ইসলামবিরোধী সংগঠনকেও সে পরিমাণ ক্ষতিকর মনে করে না। মতের অমিল হলেই এক মুসলমান আরেক মুসলমানকে নির্দ্বিধায় গুমরাহ বা পথভ্রষ্ট বলে দেয়। কাফির-ফাসিক বলে গালি দেয়। অথচ ইসলাম কঠোরভাবে এসব নিষিদ্ধ করেছে। বরং ভুল-ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও এক মুসলমান যেন আরেক মুসলমানের কল্যাণ কামনা করে এবং পরস্পর ভাই ভাই সম্পর্ক বজায় রাখে তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল কোরআনের সুরা হুজুরাতের ১০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই পৃথিবীর সব ইমানদার ভাই ভাই। অতএব তোমরা তোমাদের ভাইয়ের কল্যাণ কামনা কর।’ বহু হাদিসে মুসলমানকে গালি দেওয়ার ভয়াবহতা উল্লেখ রয়েছে। হজরত আনাস ও আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘এমন দুই ব্যক্তি যারা পরস্পর গালমন্দ করে, তখন ওই গালমন্দের পাপ সে ব্যক্তির ওপরই বর্তাবে যে প্রথমে গালমন্দ করেছে; যে পর্যন্ত না গালমন্দকৃত ব্যক্তি সীমা লঙ্ঘন করে।’ মুসলিম। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো মুসলমানকে গালমন্দ বলা ফাসিকি। আর হত্যা করা কুফরি।’ বুখারি, মুসলিম। হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বলেছেন, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মানুষ কোনো কোনো সময় এরূপ কথা বলে যাতে আল্লাহতায়ালা সন্তুষ্ট হন। অথবা সে তার গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত নয়; কিন্তু আল্লাহ ওই কথার কারণে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। পক্ষান্তরে মানুষ কখনো কখনো এরূপ কথাও বলে যাতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। অথচ সে ওই কথার ক্ষতি সম্পর্কে অবহিত নয়, কিন্তু ওই কথাই তাকে দোজখে নিয়ে যায়।’ বুখারি। বুখারি ও মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, এ কথাই তাকে দোজখের এমন নিম্নস্তরে নিক্ষেপ করে যার গভীরতা মাশরিক থেকে মাগরিব পর্যন্ত। অর্থাৎ পূর্ব দিগন্ত থেকে পশ্চিম দিগন্ত পর্যন্ত। হজরত আবু জার গিফারি (রা.)-এর বর্ণনায় এসেছে, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,  ‘কোনো ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে ফাসিক বলবে না এবং কুফরির অপবাদও আরোপ করবে না। কেননা সেই ব্যক্তি তদ্রƒপ না হলে ওই অপবাদ আরোপকারীর নিজের ওপরই তা ফিরে আসবে।’ বুখারি। মহান আল্লাহ আমাদের অন্য মুসলমান ভাইকে গালি দেওয়া থেকে হেফাজত করুন।

 

লেখক : খতিব, সমিতিবাজার  মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা।


আপনার মন্তব্য