শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪৯

মাদক পাচারের নতুন কৌশল

জনপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে

মাদক আগ্রাসন ঠেকাতে সরকার সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। সরকারের মাদকবিরোধী লড়াইয়ে মাদক ব্যবসায়ীরাও অনেকাংশে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তারা বদল করছে পাচারের কৌশল। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে মাদক পাচার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় পাচারকারীরা বারবার কৌশল পরিবর্তন করছে। এখন সরাসরি মিয়ানমারের বদলে ভারত হয়ে বাংলাদেশে ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক পাচারের কৌশল বেছে নিয়েছে তারা। মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার সীমান্তে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ায় পাচারকারীরাও নতুন কৌশল বেছে নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। রুট পরিবর্তন করে তারা ভারতীয় সীমানা ব্যবহার করে ইয়াবার চালান বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মিজোরাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে মাদকের বড় বড় চালান। বিশেষ করে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরাম, সিলেটের তামাবিল ও জকিগঞ্জ, হবিগঞ্জের বাল্লা ও মনতলা, যশোরের চৌগাছা, শার্শাসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রায়ই ঢুকছে ইয়াবার চালান। মিয়ানমার থেকে ভারত হয়ে ঢোকার পথে সম্প্রতি কয়েকটি চালান জব্দ করেছে দুই দেশের মাদকবিরোধী সংস্থা। যার মধ্যে ২ জানুয়ারি কলকাতার উল্টোডাঙ্গা থানার বেলগাছিয়ায় অভিযান চালিয়ে ২ কেজি হেরোইন ও ২ লাখ ৩২ হাজার পিস ইয়াবা আটক করা হয়, যার মূল্য ২০ কোটি টাকা। ওইসব মাদক বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য ভারতে নেওয়া হয়েছিল, কারণ ভারতে মাদক হিসেবে ইয়াবার ব্যবহার নেই বললেই চলে। মাদক যেভাবেই যে রুট দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করুক, এ একটি উদ্বেগজনক ঘটনা। আমরা আশা করব মাদক পাচারকারীদের পাকড়াও করতে শুধু মিয়ানমার নয় ভারত সীমান্তেও কড়া নজরদারি রাখা হবে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের পাকড়াও করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার ব্যাপারেও ভাবতে হবে।

 


আপনার মন্তব্য