শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২২:৫৬

তামাকের জমিতে সবজি চাষ

কৃষকদের আর্থিক প্রণোদনা দিতে হবে

কক্সবাজার ও বান্দরবানের সাতটি উপজেলায় ২০১৬ সালে অন্তত ১২ হাজার একর ফসলি জমিতে শুরু হয় তামাকের চাষ। মাত্র চার বছরের মধ্যে তামাকের স্থলে সবজি চাষে সফলতা এসেছে। প্রাকৃতিক মৎস্যপ্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর উৎস-স্থল খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ির তিন শতাধিক কৃষক পেশা পরিবর্তন করেছেন। তারা তামাক চাষ বাদ দিয়ে এখন উৎপাদন করছেন শাক-সবজি। এতে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। ২০১৬ সালে হালদা নদীতে প্রথমবারের মতো মাছ ডিম ছাড়েনি। এ নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হালদা নদী রিসার্চ ল্যাবরেটরি। হালদার উজান অঞ্চল মানিকছড়ি এলাকায় আট বছর আগে সীমিত আকারে শুরু হয় তামাক চাষ। কয়েকটি তামাক কোম্পানির বিশেষ প্রণোদনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এটি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। প্রজনন মৌসুমে হালদায় মাছের ডিম ছাড়ার জন্য প্রয়োজন পাহাড়ি ঘোলা পানির ঢল। এই পাহাড়ি ঢল না এলে প্রজনন ক্ষেত্রে  মা মাছ ডিম ছাড়ে না। স্বাভাবিকভাবে এই পাহাড়ি ঢলের পানি তামাকের বিষাক্ততা নিয়ে এলে মা মাছ ডিম ছাড়বে না। হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি একটি বেইজলাইন স্টাডি করে তামাক চাষিদের মূলধারার কৃষি কাজে ফেরাতে কিছু সুপারিশ করে। তামাকের জমিতে মানিকছড়ি উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে এগিয়ে আসে উন্নয়ন সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন। ২০১৮ সাল থেকে শুরু হয় তামাক চাষিদের সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করতে নানা কর্মসূচি। ইতিমধ্যে তালিকাভুক্ত দেড় শতাধিকসহ প্রায় ৩০০ তামাক চাষি মূলধারার কৃষি কাজে পেশা শুরু করেছেন। পশুপালন, পাহাড়ি মুরগি, ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট, হালদার মৎস্য চাষ, কুচিয়া চাষ এবং ফসল হিসেবে রামবুটান, চিনা বাদাম ও আলু বীজ সরবরাহ করা হয়। সবজি চাষের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের স্বনির্ভরতা বাড়বে। তাদের প্রয়োজনীয় আর্থিক প্রণোদনা দিতে হবে।