শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:১০

এলপিজি বিড়ম্বনা

সমস্যা সমাধানে চাই কর্তৃপক্ষীয় সুনজর

Google News

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি দেশের গার্হস্থ্য ব্যবহারের প্রধান জ্বালানি হয়ে উঠেছে। শহরাঞ্চলে যেখানে পাইপলাইনে জ্বালানি গ্যাসের সরবরাহ নেই, সেখানে এলপিজিই ভরসা। এমনকি গ্রামাঞ্চলেও দ্রুতবেগে সম্প্রসারিত হচ্ছে এর চাহিদা। বলা যায়, সাধারণ মানুষ এক সময় রান্নার জন্য জ্বালানি হিসেবে কাঠ বা গাছের ঝরা পাতা এবং গোবরে তৈরি খুঁটির ওপর নির্ভরশীল থাকলেও অর্থনৈতিক অবস্থা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এলপিজি গৃহবধূদের রন্ধন কসরতের অপরিহার্য উপকরণে পরিণত হয়েছে। ব্যাপক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে দেশজুড়ে সম্প্রসারিত হয়েছে এর বাজার। এ ব্যবসায় বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। দেশে গ্যাসের মজুদ দিন দিন কমছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন নগর ও শহর এলাকায় পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহের যে ব্যবস্থা রয়েছে তা আর খুব বেশি দিন বহাল রাখা সম্ভব হবে না। এদিক থেকে এলপিজি ব্যবসার জন্য একটি সম্ভাবনাময় খাত। কিন্তু এলপিজি আমদানি ও বিপণনে একের পর এক সমস্যার পাহাড় জমে ওঠায় সম্ভাবনাময় এ শিল্পের বিনিয়োগকারীদের হাজার হাজার কোটি টাকার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে এলপিজি শিল্পের সুস্থিতি নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অন্যতম হচ্ছে এর মূল্য স্থিরকরণ। সিলিন্ডারপ্রতি এলপিজির দর বাজারে সরবরাহ ও ব্যবহারকারী পর্যন্ত পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কোন কোম্পানির পণ্য কতটা বিক্রি হচ্ছে তার ভিত্তিতে নির্ণীত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোম্পানিগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এলপিজি বেশ সস্তা। প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে গার্হস্থ্য কাজে ব্যবহৃত এলপিজির জন্য ভর্তুকি দেওয়া হলেও বাংলাদেশে দেওয়া হয় না। ভারতের মতো বিশাল দেশে এলপিজি আমদানি ও বিপণনে মাত্র তিনটি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও বাংলাদেশে এ ব্যাপারে ৫৬টি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে অর্ধেক কোম্পানি এখন সক্রিয়। এলপিজি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ভারতের মতো ভর্তুকি দান এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা অনিবার্য হয়ে উঠেছে।  এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ঊধ্বর্তন  কর্তৃপক্ষের সুনজরের বিকল্প নেই।