শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ এপ্রিল, ২০২১ ২২:৪১

স্বাস্থ্যবিধিতে কঠোর হোন

লকডাউনের প্রয়োজন হবে না

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে লকডাউন জারি করা হয়েছে দেশজুড়ে। লকডাউনে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক দুই ধরনের কর্মসংস্থানেই সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। দিন আনে দিন খায় এমন লাখ লাখ মানুষের জন্য অনাহার-অর্ধাহারের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে লকডাউন। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সার্বিক অর্থনীতি। স্বীকার করতেই হবে মানুষের জীবন সবচেয়ে মূল্যবান। সেহেতু অর্থনীতি, জাতীয় সমৃদ্ধি ইত্যাদির চেয়ে জীবন বাঁচানোর বিষয়টি অগ্রাধিকারের দাবি রাখে। তবে জীবিকার বিষয়টি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। এ বিষয়টির সঙ্গে স্পর্শকাতরতাও জড়িত। ক্ষুধার ক্ষেত্রে মানুষ যে যুক্তি মানতে চায় না এও বাস্তবতা। এ প্রেক্ষাপটে লকডাউনকালে সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি প্রাধান্য পাওয়া দরকার। কারণ চলমান এ লকডাউনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খেটে খাওয়া দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের এসব মানুষকে আর্থিক সহায়তা দিতে সরকারের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতা বাড়াতে হবে। গত বছরের এই সময়ে আর্থিক সহায়তা দিতে গিয়ে কিছু অনিয়ম-দুর্নীতি সংঘটিত হলেও মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছেছে। এবারও এ সহায়তা চালু করা শুধু নয়, বাড়াতে হবে। গ্রামের তুলনায় নগরকেন্দ্রিক দরিদ্র মানুষ বেশি কষ্টের মধ্যে রয়েছে। তাদের সংকটটা একটু বেশিই। কেননা গ্রামে এমনিতেই কভিডের প্রভাব কম, ফলে মানুষের দুর্ভোগও কম। এজন্য নগরকেন্দ্রিক দরিদ্র মানুষের জন্য আলাদাভাবে আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। জীবন বাঁচানোর জন্যই সরকার লকডাউনের মতো কঠিন পথ বেছে নিয়েছে। চিকিৎসা-বিজ্ঞানীদের মতে করোনার দ্বিতীয় অভিঘাতের দাপট প্রথমবারের চেয়ে বেশি। দিন দিন তা অবনতিশীল হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই। করোনাকালে কলকারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু রাখা হয়েছে। এগুলো ভালো উদ্যোগ। আমাদের মতে ঘরের বাইরে সবাই মাস্ক ব্যবহার তথা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে লকডাউনের প্রয়োজন হবে না। এজন্য সর্বত্র যাতে স্বাস্থ্যবিধি জোরালোভাবে মানা হয় তা নিশ্চিত করা জরুরি।