শিরোনাম
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

মানুষ মাটির তৈরি হয়েছে কীভাবে?

আল্লামা মাহ্মূদুল হাসান

আমরা জানি মানুষকে মাটি দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু কোথায়? মানুষ মাটির তৈরি হলো কীরূপে? মানুষ তো মা-জননীর রেহেম থেকে ভূমিষ্ঠ হয়, সেখানে মাটি কোথায়? হ্যাঁ, হজরত আদম (আ.)-কে মাটির তৈরি বলা যেতে পারে, কারণ তাকে সরাসরি মাটি থেকে তৈরি করে তার ভিতরে আত্মা পরিবেশন করা হয়েছে। আর হজরত হাওয়াকে হজরত আদমের দেহ থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ছাড়া সমস্ত মানুষকে মা-জননীর রেহেমে সৃষ্টি করা হয়েছে; তাহলে মানুষ মাটির তৈরি হলো কীভাবে? এ প্রশ্নের উত্তর দুই রকম হতে পারে। প্রথমত শেখ বংশে যার জন্ম হয় তাকে শেখ বলা হয়, আর সৈয়দ বংশে জন্মগ্রহণ করলে তাকেও সৈয়দ বলা হয়। এমনিভাবে হজরত আদম আলাইহিস সালাম যেহেতু মাটির তৈরি মানুষ আর সমস্ত মানব জাতির সৃষ্টি ও জন্মের কেন্দ্রবিন্দু তিনিই, তাই সমস্ত মানুষকে মাটির মানুষ বলা হয়। দ্বিতীয়ত অন্যান্য মানুষ সরাসরি মাটির তৈরি নয় বটে কিন্তু যে শুক্রের সাহায্যে মা-জননীর রেহেম সন্তান ধারণ করে, সেই শুক্র রক্ত থেকে সৃষ্ট আর রক্তের উপাদান মাটি থেকে উৎপন্ন খাদ্যদ্রব্য। আমরা ভাত-রুটি খেয়ে থাকি, আপেল, কমলা, পেয়ারা আরও কত কিছু খেয়ে থাকি; এর মাধ্যমে আমাদের দেহে ভিটামিন পরিবেশিত হয়, আর দেহ সুষ্ঠু সুঠাম হয়, শক্তিশালী হয়। এসব খাদ্যদ্রব্য ও ফলমূলে বৃক্ষলতার মাধ্যমে ভিটামিন সংযোজিত হয়, আর ভিটামিনের আবির্ভাব মাটি থেকে, মাটির ভান্ডার থেকে। আল্লাহর কুদরতে ভিটামিন বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন ধরনের স্বাদে-ফলে পরিণত হয়। এরপর সূর্য-চন্দ্রের আলো ও তাপে তা পেকে যায়, খাওয়ার উপযুক্ত হয়। পানি ও বাতাসে তা সজীব হয়, এরপর মানুষ সেটাকে আহার হিসেবে গ্রহণ করে। ফলে এসব খাদ্য দেহে শক্তি জোগায়, ভিটামিন সঞ্চার করে। এখান থেকেই তৈরি হয় রক্ত, আর সে রক্তের এক অংশ শুক্র হয়ে মা-জননীর রেহেমে প্রবেশ করে সন্তানের আকৃতি ধারণ করে। এ কারণেই মানুষের স্বভাবে রয়েছে মাটি, পানি, বাতাস ও অগ্নি-তাপের চাহিদা। এ কারণেই মানুষকে মাটির তৈরি বলা হয় এবং এটা যথার্থই বলা হয়। আর এজন্যই আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আমি তোমাদের মৃত্তিকা থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর বীর্য থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে।’

সন্তানের খোরাক : রক্তের এক অংশ শুক্র হয়ে সন্তান ধারণের কাজে লাগে আর অবশিষ্ট অংশ দেহের শিরা-উপশিরায় সন্নিবেশিত হয়ে দেহে শক্তি সঞ্চার করে। যখন রেহেম সন্তান ধারণ করে তখন রেহেমের মুখ বন্ধ করে নির্গত রক্তকে সন্তানের খোরাকে পরিণত করা হয়। কিন্তু রক্ত যেমন বিক্রি করা হারাম, তেমনি তা খাওয়াও হারাম। অবশ্য অত্যাবশ্যকীয় হলে ইনজেকশনের মাধ্যমে পরিবেশন করা যায়। আল্লাহর তত্ত্বাবধানে মা-জননীর রেহেমে অবস্থানকালে যাতে সন্তানের মুখ দিয়ে উদরে রক্ত না যায় সেজন্য নাভির সঙ্গে শিরা সংযোজন করে মা-জননীর রক্ত সন্তানের উদরে খোরাক হিসেবে পরিবেশন করে সন্তানকে হারাম খাওয়া থেকে রক্ষা করা হয়। আল্লাহর এ কুদরত এবং মানুষের প্রতি তার এরূপ দয়া-মায়া ও করুণার কথা কি মানুষ চিন্তা করে? যদি মানুষ গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করত তাহলে মানুষের ওপর আল্লাহর কী পরিমাণ অধিকার রয়েছে তা তাদের সামনে দিনের আলোর মতো সুস্পষ্ট হয়ে উঠত। সন্তান মাতা-পিতার অবাধ্য হলে, মাতা-পিতার বিরুদ্ধাচরণ করলে যদি বেআদব হয় এবং গ-মূর্খের চেয়ে অধম বলে গণ্য হয় তাহলে যেসব মানুষ বিশ্বস্রষ্টা আল্লাহর প্রতি ইমান স্থাপন করে না, তাঁর প্রতি আনুগত্যশীল হয় না; বরং তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করে সে বুদ্ধিমান নাকি গ-মূর্খ ও বেআদব? সে কি আল্লাহর করুণার পাত্র হতে পারে? মোটেই হতে পারে না! আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর প্রতি আনুগত্যশীল হওয়ার তৌফিক দিন।

লেখক : আমির, আল হাইআতুল উলয়া ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ।

সর্বশেষ খবর