বৃহস্পতিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২২ ০০:০০ টা

নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা

সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করুন

ঈদ উদ্যাপনে প্রায় ১ কোটি মানুষ রাজধানী এবং রাজধানীর সম্প্রসারিত অংশ বলে বিবেচিত গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে যায়। স্বজনদের মধ্যে ঈদ করার আবেগে তারা ছুটে যায় নাড়ির টানে। স্বভাবতই সবাই চায় ঈদযাত্রাটা স্বস্তিকর হোক। পরপর দুই বছর করোনাঘাতে অনেকের পক্ষে ঈদে বাড়ি যাওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের অনেকে এ বছর পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়ি ঈদ উদ্যাপনের স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু যাত্রাপথের ভোগান্তিতে সে স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যানবাহন চলাচলের সুব্যবস্থা না করে রাজধানী থেকে বের হওয়ার সব সড়ক-মহাসড়কে উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় তীব্র যানজটের আশঙ্কা করছেন পরিবহনসংশ্লিষ্টরা। শুধু সড়কেই নয়, এবার রেল, লঞ্চ এমনকি আকাশপথেও ভোগান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সব এয়ারলাইনসে টিকিট সংকট দেখা দিয়েছে। লঞ্চ ও ট্রেনেও দেখা দিতে পারে মাত্রাতিরিক্ত ভিড়। পরিবহনসংশ্লিষ্টদের মতে বিভিন্ন সড়কে উন্নয়ন কাজ চলা ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ বিভিন্ন রুটে এবার পোহাতে হবে ভোগান্তি। এ ছাড়া পদ্মা সেতুতে ফেরির ধাক্কার কারণে মাওয়ার শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি ফেরি পারাপারে বাস নেওয়া বন্ধ রয়েছে অনেক দিন। এ রুটের গাড়িগুলোও এখন পাটুরিয়া ঘুরে যাতায়াত করছে। এতে ভোগান্তি বেড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের। সড়কের বেহাল অবস্থায় এ বছর রেলপথে যাতায়াতে আগ্রহ বেড়েছে। স্বভাবতই রেলের টিকিট সোনার হরিণের মতোই কল্পনীয় বিষয় হয়ে উঠতে পারে। ঈদে পরিবহনে চাঁদাবাজি ঐতিহ্যের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাঁদাবাজদের কারণেও যানবাহন চলাচলে সংকট সৃষ্টি হয়। পুলিশের মধ্যেও লুকিয়ে থাকা চাঁদাবাজের সংখ্যা কম নয়। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সড়ক-মহাসড়কের সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি চাঁদাবাজদের দমনে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হতে হবে। অজ্ঞান ও মলম পার্টির দৌরাত্ম্য থামাতেও নিতে হবে উদ্যোগ।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর